দেড় কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ ইজিবাইক মালিক সমিতির বিরুদ্ধে
জেলা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। ছবি: সমকাল
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৩ | ০৮:৩৪ | আপডেট: ০২ অক্টোবর ২০২৩ | ০৮:৩৪
কিশোরগঞ্জে ইজিবাইক মালিক সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে চাঁদা আদায়ের এক কোটি ৫২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দুই বছর পর পর নির্বাচন দেওয়ার নিয়ম থাকলেও অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্য থেকে কর্মকর্তারা নির্বাচন দিচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
আজ সোমবার দুপুরে জেলা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেছে ‘কিশোরগঞ্জ পৌর ইজিবাইক মালিক শ্রমজীবী সমবায় সমিতি’। তবে মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি কামাল মিয়া সব অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো সংবাদ সম্মেলনকারীদের দায়ী করেছেন।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মালিক শ্রমজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর ভূঁইয়া। তিনি বলেন, পৌর এলাকায় নিবন্ধিত ইজিবাইক চলে ৬০০। প্রতিটি থেকে মালিক সমবায় সমিতির নামে মাসে ৬০০ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। এই হিসাবে সমিতি প্রতিষ্ঠার পর থেকে ছয় বছরে তহবিলে জমা হয়েছে দুই কোটি ৫৯ লাখ ২০ হাজার টাকা। আর অফিস ভাড়া, স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মকর্তাদের বেতন, আপ্যায়নসহ বিভিন্ন খাতে ছয় বছরে খরচ হয়েছে এক কোটি ৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। উদ্বৃত্ত এক কোটি ৫২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। এই টাকার হিসাবের জন্য বার বার তাগিদ দেওয়া সত্বেও মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি কামাল মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক দীন মোহাম্মদ তুহিন হিসাব দিতে অনিহা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, দুই বছর পর পর নির্বাচন দেওয়ার কথা থাকলেও তারা অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে নির্বাচন দিতে অনিহা প্রকাশ করছেন তারা।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, পৌরসভা থেকে প্রতিটি ইজিবাইকের জন্য সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার নিয়ে স্টিকার দেয়। কিন্তু এসব স্টিকার নকল করে অনেকেই ইজিবাইক চালাচ্ছেন। এসব কারণে শহরে ৬০০ ইজিবাইকের স্থলে প্রায় দ্বিগুণ ইজিবাইক শহরে চলাচল করছে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কিছুদিন আগে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এ সময় মালিক শ্রমজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি বাবুল মিয়া, উপদেষ্টা মনিরুজ্জামান, আনোয়ার হোসেন, কাঞ্চন সুলতান ও সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি কামাল মিয়া জানান, যারা সংবাদ সম্মেলন করেছেন, তাদের মধ্যে সভাপতি বাবুল মিয়াসহ দুই একজন মালিক সমবায় সমিতির সঙ্গে জড়িত। বাকিরা সবাই বাইরের। কিছুদিন আগে তারা নতুন ভোটার তালিকা করে নির্বাচন আয়োজনের জন্য মাইকিং করেছিলেন। কিন্তু কেউ তাদের ডাকে সাড়া দেননি। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, খাতাপত্রে সব আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসাব আছে।
