সংসার জীবন ফিরে পেতে এক মায়ের আকুতি
রাজাপুর (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৩ | ১১:৩০ | আপডেট: ০৪ অক্টোবর ২০২৩ | ১১:৩০
ঝালকাঠির রাজাপুরে তিন সন্তানকে ফিরে পেতে এবং স্বামীর অব্যাহত হুমকি থেকে বাঁচতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন লাকী আকতার নামে এক স্কুল শিক্ষক। বুধবার তিনি রাজাপুর সাংবাদিক ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তার অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন।
লাকী আকতার কাঁঠালিয়ার পূর্ব ছিটকী গ্রামের নুরুল্লাহ ওরফে মামুন রেজার স্ত্রী ও রাজাপুর সদরের চর রাজাপুর মৃধাবাড়ি এলাকার নজরুল ইসলাম মৃধার মেয়ে। রাজাপুর সদরের সাউথ বেঙ্গল কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষকতা করেন তিনি।
২০০৫ সালে নুরুল্লাহর সঙ্গে লাকীর বিয়ে হয়। ২০১৬ সাল পর্যন্ত তারা ঢাকায় বসবাস করেন। তাদের সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।
লাকী আকতারের ভাষ্য, তার দেওয়া ৫ লাখ টাকাসহ মোট ১০ লাখ টাকায় ঢাকায় এক টুকরো জমি কেনা হয়েছিল। পরে সেই জমি বিক্রি করে স্বামীকে ব্যবসায় সহায়তা করেন। ঢাকার মোহাম্মদপুরে স্বামী-স্ত্রী মিলে গড়ে তোলেন মাদারল্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। সেখানে তার স্বামী এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি জেনে ফেলায় তার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতে থাকেন স্বামী। ওই সময় ছেলের কিডনিতে সমস্যা দেখা দেয়। ছেলের চিকিৎসা করাতে অনীহা দেখালে স্বামীর সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। এসব ঘটনা সহ্য করতে না পেরে সন্তানদের নিয়ে ঢাকা থেকে রাজাপুরে বাবার বাড়িতে চলে আসতে চান তিনি। কিন্তু সন্তানদের রেখে ২০১৬ সালে তাকে ঘর থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে একাধিকবার সংসার করার চেষ্টা করলেও স্বামী তাতে সায় দেননি। উল্টো ঢাকার বাসায় গেলে তাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ করেও কোনো লাভ হয়নি।
লাকী আকতার অভিযোগ করেন, সেই থেকে প্রায় সাত বছর স্বামী তার কোনো খোঁজ নেননি বা ভরণপোষণ দেননি। এমন পরিস্থিতিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর ঝালকাঠি সদরের সাইচলাপুর গ্রামের এক কিশোরীকে বিয়ের প্রস্তুতি নেন তার স্বামী। পুলিশ নিয়ে গিয়ে সেই বিয়ে বন্ধ করে দেন তিনি (লাকী)। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামী ও তার আত্মীয়স্বজন তাকে মামলায় জড়ানো, গুম, খুনসহ বিভিন্ন হুমকি দিয়ে হয়রানি করছেন। এসব ঘটনায় কাঁঠালিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে নুরুল্লাহর ফোন নম্বরে কল দিলে তার ছেলে হামজা ফোন ধরে। সে জানায়, তার বাবা ঘুমে আছেন। এখন কথা বলতে পারবেন না বলে কল কেটে দেয়।
কাঁঠালিয়া থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেয়ে লাকীর বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
