ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

অবৈধ তেলের ডিপোয় আগুন, সাটুরিয়ায় আহত অন্তত ৩০

অবৈধ তেলের ডিপোয় আগুন, সাটুরিয়ায় আহত অন্তত ৩০
×

তেলের ডিপোয় অবৈধভাবে পাম্প মেশিন বসানোর সময় আগুন লাগে। ছবি: সমকাল

সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৩ | ১৩:২০ | আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৩ | ১৩:২০

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় একটি তেলের ডিপোয় অবৈধভাবে পাম্প মেশিন বসানোর সময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে ভাসিয়ালি কৃষ্টপুর তেলের ডিপোতে এ ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট প্রায় ৩ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। 

স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৬ মাস আগে উপজেলার ভাসিয়ালি কৃষ্টপুর মোড়ে খোরশেদ আলম নামে একজন তেলের ডিপোটি বসান। বুধবার দিনে সেখানে যমুনা অয়েল কোম্পানি থেকে ১০৫ ড্রাম ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন, কোরোসিন এবং ৫ ড্রাম মবিল আনা হয়। রাত সাড়ে ৭টার দিকে দুটি নতুন পাম্প মেশিন স্থাপনের সময় আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে দু’জন দগ্ধ হন। এ ছাড়া তেলের ড্রাম ফেটে আগুন ২০০ থেকে ৩০০ মিটার ওপরে উঠলে চারদিকে ভিড় করা মানুষ ছোটাছুটি শুরু করে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। 

এদিকে ওই তেলের ডিপো বা পাম্প কোনোটিরই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। জেলা প্রশাসক ও ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদনও নেই। এমনকি পেট্রোবাংলার লাইন্সেসও নেই। ২০১৩ সালে নয়াডিঙ্গি এলাকায় তেলের ডিপোর অনুমোদন পেলেও তা নবায়ন করা হয়নি।

পাম্পের মালিক খোরশেদ আলম জানান, মেসার্স রাকিব এন্টারপ্রাইজ নামের প্রতিষ্ঠানটি তাঁর ভগ্নিপতি মোকছেদ আলীর। তিনি যমুনা অয়েল কোম্পানির ডিলার। তাঁর মূল ডিপো সাটুরিয়ার ধানকোড়া এলাকায়। ভাসিয়ালি কৃষ্টপুর ডিপোটি তিনি দেখাশোনা করতেন। অনুমোদনের বিষয়ে তিনি বলেন, ধানকোড়া এলাকার লাইন্সেস দিয়ে এখানে সাব-ডিপো করা হয়। এই ডিপোর ড্রাম থেকে তেল খুচরা বিক্রি করা হতো। দুটি নতুন মেশিন বসানোর সময় বৈদ্যুতিক লাইন দেওয়ার পরই আগুন লেগে যায়। এতে তাঁর অন্তত ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, ডিপোর মালিক চুরি করে এখানে তেল মজুত রেখে বেশি দামে বিক্রি করতেন। এখানে তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হতো। সাইনবোর্ডেও ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল, অকটেন, মবিল পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করার কথা লেখা আছে। 

এ বিষয়ে ডিলার মোকছেদ আলীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। 

সাটুরিয়া ফায়ার স্টেশন ইনচার্জ মজিবর রহমান সিকদার বলেন, রাকিব এন্টারপ্রাইজের মালিক মোকছেদ আলী এখানে অবৈধভাবে তেল মজুত করেছিলেন। তাঁর তেলের ডিপো নয়াডিঙ্গি এলাকায়। সাটুরিয়ার ভাসিয়ালি কৃষ্টপুর মোড়ের ডিপোর কোনো নথি দেখাতে পারেননি। পাম্প বসানোর কোনো ধরনের অনুমোদনও নেই। তারা অবৈধভাবে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল, কেরোসিন ও মবিল মজুত করে বিক্রি করছিলেন। তিনি আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় আশপাশের কমপক্ষে ৫০টি দোকান রক্ষা পেয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও কীভাবে আগুন লেগেছে তদন্তের পর বলা যাবে।


আরও পড়ুন

×