মায়ের যুদ্ধে হারল করোনা
মায়ের সঙ্গে ১০ মাস বয়সী শিশু আবির - সমকাল
শৈবাল আচার্য্য, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ০২ মে ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ০২ মে ২০২০ | ১৫:৩৬
'মায়ের কোলেতে শুয়ে জুড়ায় পরান'- করোনা সংক্রমিত মাত্র ১০ মাসের শিশু আবির মায়ের কোলে শুয়ে সুস্থ হয়ে উঠে সারাদেশের মানুষকে আবারও মনে করিয়ে দিল বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা কবিতার পঙ্ক্তি। করোনা আক্রান্ত রোগীর সঙ্গে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ- এ কথা জানার পরও মাতৃত্বের টানে করোনা আক্রান্ত মাত্র ১০ মাসের শিশু আবিরকে বাঁচাতে অন্যরকম যুদ্ধে নেমেছিলেন মা রুমা আকতার। শিশুর জন্য জীবন বাজি রেখে ২৪ ঘণ্টা আইসোলেশনে থাকতে হয়েছে তাকেও। খাওয়াতে হয়েছে বুকের দুধ। করতে হয়েছে পরিচর্যা। শেষ পর্যন্ত মায়ের ভালোবাসার কাছে হার মেনেছে প্রাণঘাতী কভিড-১৯।
আবিরের বাড়ি চট্টগ্রামের চন্দনাইশের পূর্ব জোয়ারা গ্রামে। দেশে করোনা সংক্রমিত রোগীদের মধ্যে আবিরই সবচেয়ে কম বয়সী রোগী। পরপর দু'বারের নমুনা পরীক্ষায় ফল নেগেটিভ আসায় তাকে গতকাল শনিবার বিকেলে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। আবিরের মায়ের নমুনা পরীক্ষা করেও করোনা নেগেটিভ পাওয়া গেছে। তবে কার মাধ্যমে, কীভাবে শিশুটি আক্রান্ত হয়েছে, তা এখনও জানতে পারেননি চিকিৎসকরা। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার নাথ সমকালকে বলেন, 'মাত্র ১০ মাসের শিশু। কীভাবে সে একা থাকবে? আবার মা তাকে একা রাখবেই বা কী করে? ঝুঁকি থাকলেও তাই শিশুটির সঙ্গেই হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে থেকে তার দেখভাল করেন মা। হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, আয়াসহ সবার পাশাপাশি শিশুটির মাও এই সন্তানকে বাঁচাতে অন্যরকম যুদ্ধ করেছেন। সুরক্ষা সামগ্রী যতই থাক, শিশুটিকে বুকের দুধ খাওয়াতে হয়েছে তাকে। ছিল শিশু ও মায়ের ২৪ ঘণ্টার স্বাভাবিক নৈকট্য ও যোগাযোগ। এ হাসপাতালে এ পর্যন্ত যত করোনা রোগী ভর্তি হয়েছে, তাদের মধ্যে আবির পুরোপুরি ব্যতিক্রম।'
জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আব্দুর রব বলেন, 'বয়সীদের চিকিৎসার স্বার্থে ট্যাবলেট দিতে পারলেও শিশুটির ক্ষেত্রে সেরকম কোনো কিছু করার সুযোগ ছিল না। শরীরে ইনজেকশন দিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে গেছি আমরা। শিশুটিকে দেখভাল করা নিয়েও আমাদের দুশ্চিন্তা ছিল। ঝুঁকি জেনেও শিশুটির সঙ্গে তার মাও আইসোলেশনে থাকায় আমরা আশ্বস্ত হয়েছি। আবির সুস্থ হয়ে ওঠায় আমরা খুবই খুশি।'
আবির চন্দনাইশের প্রবাসী মাহাবুল আলমের ছেলে। গত ১৮ এপ্রিল জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে আবিরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২১ এপ্রিল নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে করোনা পজিটিভ আসে তার। এরপর তাকে জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বাসনা মুহুরী বলেন, 'শিশুদের শরীরে পুষ্টি ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম। পরিবারের বড়দের মাধ্যমে শিশুদের সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা বেশি।'
- বিষয় :
- করোনা
- মায়ের যুদ্ধ
- চট্টগ্রাম