চট্টগ্রাম
জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার কোটি টাকা ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন
চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা তলিয়ে গেছে পানিতে
শৈবাল আচার্য্য, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ১৩:২২ | আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ১৩:৪৫
বন্দর নগরী চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টি চলছে। পানিতে তলিয়ে গেছে নগরের বেশিরভাগ এলাকা। এর সাথে আছে ঝড়ো বাতাস। আকাশ মেঘলা থাকায় সকাল থেকেই অনেকটা অন্ধকার হয়ে যায় নগরের চারপাশ। ভোর থেকেই কখনও ঝিরিঝিরি, কখনও মুষলধারে বৃষ্টি ঝরছে। বেশিরভাগ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় পেশাজীবী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষকে। এই অবস্থায় জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার কোটি টাকা খরচের পরও কেন এমন অবস্থা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নগরবাসী।
চট্টগ্রামে মঙ্গলবার গত চার দশকের তুলনায় সবোর্চ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকার কথা বলছে সংস্থাটি। বুধবার ভোর থেকেই লাগাতার বৃষ্টি চলতে থাকায় নগরের মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, মোহাম্মদপুর, চকবাজার, আগ্রাবাদ, হালিশহর, উত্তর কাট্রলী, দেওয়ান বাজার, কাপাসগোলা, প্রবর্তকসহ বেশিরভাগ নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

সড়কে কোথাও হাঁটু সমান, কোথাও আবার তার চেয়েও বেশি পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে বাধার মুখে পড়ছে। এতে সাধারণ মানুষকে পড়তে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগে। কিছু কিছু এলাকার বাসা বাড়ির ভেতরেও পানি ঢুকে গেছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ চৌধুরী জানান, চট্টগ্রামে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
দুই দিন ধরে নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করার পরও সুফল নেই কেন? এর দায় দায়িত্বশীলরা এড়াতে পারেন না বলেও অভিমত তাদের।

নগরের মুরাদপুর এলাকার বাসিন্দা চাকরিজীবী পপি বেগম বলেন, ‘পানির নিচে তলিয়ে গেছে মুরাদপুর সড়ক। দুই ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করেও পানি কমছে না, উল্টো বাড়ছে। জলাবদ্ধতার কারণে মঙ্গলবারও অফিসে যেতে পারিনি। আজ বুধবারও একই অবস্থা। অফিস থেকে বারবার ফোন দিচ্ছে। কীভাবে অফিসে পৌঁছাবো বুঝতে পারছি না।’

চকবাজারের বাসিন্দা ইমাম চৌধুরী বলেন, ‘চসিক মেয়রসহ কয়েকটি সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রায়ই দেখি ঢাকঢোল পিটিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করতে। কিন্তু বাস্তবে এসবের তেমন সুফল পাচ্ছে না নগরবাসী। সামান্য কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই পানিতে ডুবে যাচ্ছে বেশিরভাগ এলাকা। কোথাও কোথাও হাঁটু থেকে কোমর সমানও পানি জমছে। তাহলে হাজার কোটি টাকা যাচ্ছে কোথায়? নগরবাসীর এমন ভোগান্তির শেষ হবে কবে?’