বাড়ি ফিরলেন করোনা জয়ী ৭ পুলিশ সদস্য
বাঁ থেকে পুলিশ সদস্য জামাল, সোনিয়া ও আমিনুল।
কিশোরগঞ্জ অফিস
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২০ | ১০:০১
কিশোরগঞ্জে সাতজন পুলিশ সদস্য করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) জয় করে সুস্থ হয়েছেন। রোববার তারা সবাই বাড়ি ফিরেছেন বলে সমকালকে জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভৈরব থানায় কর্মরত কনস্টেবল মো. আব্দুস সামাদ (৪৫), কনস্টেবল দুলাল কবির (৩৫) ও জামাল উদ্দিন (৩৫) গত ১৬ এপ্রিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদের নমুনা সংগ্রহ পরীক্ষা করে করোনা পজেটিভ আসে। পরে আব্দুস সামাদকে ১৭ এপ্রিল উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশেষ এ্যাম্বুলেন্সযোগে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় রোববার করোনামুক্ত হিসেবে তাকে রিলিজ দেওয়া হয়। অপরদিকে দুলাল কবির ও জামাল উদ্দিনকে কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস পজিটিভ হওয়ায় তাদেরকে ভৈরব ট্রমা সেন্টারের অধীনে তাদের নিজ নিজ বাসায় চিকিৎসাধীন (আইসোলেশন) রাখা হয়।
এ ছাড়া কনস্টেবল তানজিল আহম্মেদ (২৪), কনস্টেবল আমিনুল ইসলাম (২৮), কনস্টেবল আঃ রহিম (৩০) ও নারী কনস্টেবল সোনিয়া আক্তার (২৬) চারজনই ভৈরব থানায় কর্মরত থাকা অবস্থায় ১৮ এপ্রিল করেনা পজেটিভ ধরা পড়ে। ১৯ এপ্রিল নারী কনস্টেবল সোনিয়া আক্তারকে ট্রমা সেন্টারের অধীনে তার নিজ বাসায় চিকিৎসাধীন (আইসোলেশন) রাখা হয় এবং অন্য তিনিজন তানজিল, আমিনুল ও আঃ রহিমকে ট্রমা সেন্টারের অধীনে ভৈরবে শহীদ আইভি রহমান স্টেডিয়ামে আইসোলেশনে রাখা হয়। তাদের তৃৃতীয় বার পুনরায় কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করলে পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ হওয়ায় আজ রোববার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদেরকে করোনামুক্ত ছাড়পত্র দিয়ে রিলিজ করে দেয়।
কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. মজিবুর রহমান ৭ পুলিশ সদস্য করেনামুক্ত হয়ে নিজেদের বাসায় ফিরেছেন বলে নিশ্চিত করে বলেন, এটা আমাদের সবার জন্য সুসংবাদ।
পুরিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, করোনা জয়ী পুলিশ সদস্যরা তাদের মনোবল ফিরে পেয়েছে। তাদের দেখে অন্য সদস্যরাও আগামীতে আতঙ্ক কাটিয়ে সাবধানতার নীতি মেনে সাহসী ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশাবাদী।
ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ও উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ডা. বুলবুল আহম্মেদ বলেন, আজ ৩ মে তাদের রিলিজ দেওয়া হয়েছে। তারা সবাই করোনাকে জয় করে সুস্থ হয়েছেন। তারা আনন্দ-উচ্ছ্বাস নিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।