ফুলবাড়িয়ায় ১৫০ জনকে ত্রাণ দিল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা
ত্রাণ বিতরণ করছেন শিক্ষার্থীরা
ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২০ | ১১:১৫ | আপডেট: ০৩ মে ২০২০ | ১১:৩২
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ ১৫০ হতদরিদ্রদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ শিক্ষার্থীদের গড়া স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
রোববার দুপুরে সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয় গারো নৃগোষ্ঠী পরিবারসহ হতদরিদ্রদের মধ্যে।
‘২৫০ গারো পরিবারের দিন কাটছে অনাহারে’ শিরোনামে সমকালের অনলাইন এবং প্রিন্ট সংস্করণে সংবাদ প্রকাশের পরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাবার পাওয়ার পর তৃতীয় দফায় এবার তারা ত্রাণ সামগ্রী পেল।
দুপুরে উপজেলার বাবুলের বাজারে কাছে আনন্দ স্কুলের মাঠে তিন ফুট নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির নৃবিজ্ঞান এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সমন্বয়ে রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের গারোসহ অন্তত ১৫০ জন হতদরিদ্র পরিবারের সদস্যদের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
স্থানীয় বাবুগঞ্জ মাঝি পারার ৫২ জন সনাতন ধর্মাবলম্বী জেলে এবং হাতিলেইট গ্রামের ৯৮ জন গারোর মাঝে এ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে সংগঠনটি।
ত্রাণ বিতরণকালে রাঙামাটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সালিনা চৌধুরি সুষমা ছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন-ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির নৃবিজ্ঞান এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের পক্ষে শিক্ষার্থী নাহিদ নহসিন, ওয়ার্ড সদস্য সেকান্দর আলী আকন্দ, আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম,সংগঠন ফুলবাড়িয়া ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ বিউটি মানকিন,শিক্ষিকা শিল্পী মারাকসহ প্রমুখ।
ত্রাণ বিতরণ শেষে রাঙামাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সালিনা চৌধুরী সুষমা বলেন, এই ইউনিয়নে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেশি, বিশেষ করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এখানে বসবাস যুগের পর যুগ ধরে। সব সময় তাদের পাশে থেকে কাজ করার চেষ্টা করেছি। খোঁজখবর নিয়ে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছি। করোনার এই সময়ে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের এমন উদ্যোগ মানবতার উদার দৃষ্টান্ত ।
ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির নৃবিজ্ঞান এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের পক্ষে শিক্ষার্থী নাহিদ নহসিন বলেন, সমকালকে ধন্যবাদ এমন মানবিক সংবাদ প্রকাশের জন্য। আমরা মনে করি, এই সংকট মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল ছিদ্দিক সমকালকে বলেন, আমার খুব ভালো লাগছে দেশের এ পরিস্থিতিতে শ্রমজীবী খেটে খাওয়া মানুষের পাশে প্রশাসনের সহায়তায় পাশাপাশি যখন দেখছি তরুণ শিক্ষার্থীরা অসহায় মানুষের পাশে খাদ্য নিয়ে এগিয়ে আসছে। এভাবে আমাদের সমাজের সব বিত্তবানদের হতদরিদ্র পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।