১২ দিন পর পাওয়া ফলাফলে স্বামী-স্ত্রীসহ ৪ জনের করোনা পজিটিভ
ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ মে ২০২০ | ০৮:৫১ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবহন সংকট থাকায় উপজেলার পরিষদ চুক্তিতে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা বরাদ্দ দেয় ২০ দিনের জন্য। সেই অটোরিকশায় ঘুরে করোনার নমুনা সংগ্রহের জন্য টিম মাঠে যাচ্ছিল। স্বাস্থ্য বিভাগের করোনা ইউনিট ওই চালকেরও নমুনা সংগ্রহ করে। তবে ফলাফল আসে ১২ দিনের মাথায়। এতে করোনা পজেটিভ এসেছে ওই চালকের।
ওই চালক ছাড়াও স্বামী-স্ত্রীসহ আরো ৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গেছে। আক্রন্ত ৪ জনের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বগঞ্জ পৌর এলাকায়। এ নিয়ে উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ জনে। তবে ৬ জন ইতোমধ্যে করোনাজয় করেছেন।
জানা গেছে, পৌর এলাকার একটি গ্রামের বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী ওই সিএনজি চালিত অটোরিকশার চালক। করোনা ইস্যুতে যানবাহন চলাচলে বিধি আরোপ হলে কর্মহীন হয়ে পড়েন তিনি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যানবাহন সংকটের কারণে করোনার নমুনা সংগ্রহ করতে করোনা ইউনিটের সদস্যরা মাঠে যেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল। ওই অবস্থায় উপজেলা পরিষদ থেকে দৈনিক এগারশ টাকা ভাড়া ভিত্তিতে ২০ দিনের জন্য একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা নির্ধারণ করে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন। গত ১৭ এপ্রিল থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করোনা ইউনিটের সদস্যদের পরিবহন করে যাচ্ছিলেন ওই চালক। গত ২৪ এপ্রিল সিএনজি চালকের নমুনা সংগ্রহ করে করোনা ইউনিট। করোনার নমুনা সংগ্রহ করা হলেও তার ফলাফল পাওয়া যাচ্ছিল না। ওই অবস্থায় ওই চালক হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা থাকলেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করোনা ইউনিটের পরিবহন কাজে নিয়োজিত ছিলেন তিনি।
কিন্তু মঙ্গলবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে পরীক্ষা শেষে সন্ধ্যায় ওই চালকের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয় বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূরুল হুদা খান। একই সঙ্গে আরো ৩ জনের শরীরে করোনা পজেটিভ পাওয়া যায়। গাজীপুর ফেরত ২৮ বছর বয়সী মোটরযান শ্রমিক স্বামী ও ২৩ বছর বয়সী গার্মেন্ট কর্মী স্ত্রীর শরীরেও করোনা পজেটিভ এসেছে। মঙ্গলবারের ফলাফল ২৫ বছর বয়সী আরো এক যুবকের শরীরেও করোনা ভাইরাসের জীবানু পাওয়া যায়।
গত ২৪ এপ্রিল ১৯ জনের নমুনা পাঠানো হলে ১২ দিনের মাথায় ফলাফলে ৪ জনের শরীরে করোনা পজেটিভএসছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে ধারণ ক্ষমতার বেশি নমুনা জমা পড়ায় ফলাফল পেতে বিলম্ব হচ্ছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে।
১২ দিনের মাথায় প্রাপ্ত ফালফলে করোনার সংক্রমণ পাওয়া গেলেও ইতোমধ্যে ওই আক্রান্ত ব্যক্তিরা অনেকে সংস্পর্শে গেছেন। ফলাফলে দীর্ঘ সূত্রিতার কারণে আরো অনেকের শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে থাকতে পরে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূরুল হুদা খান বলেন, করোনার নমুনা সংগ্রহে কাজে নিয়োজিত সিএনজি চালকসহ ৪ জনের শরীরে করোনা পজেটিভ এসেছে। আক্রান্তদের হোম আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হবে। তবে মোটরযান শ্রমিক স্বামী, গার্মেন্ট কর্মী স্ত্রী এলাকায় কয়েকদিন অবস্থান শেষে চলে যাওয়ায় তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পেতে যদি এমন দীর্ঘসূত্রিতা হয় তাহলে সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। সঠিকরসময়ে ফলাফল পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।