নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে জনবল সংকট, নেই নৌযান
ফাঁকা পড়ে আছে ছাতকের মণ্ডলীভোগে নৌ পুলিশের স্থায়ী ফাঁড়ি ভবন নির্মাণের স্থান সমকাল
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৪ | ২৩:২৭
সুনামগঞ্জ জেলার শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত ছাতক উপজেলা। এখানে নৌ পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপিত হওয়ার পর প্রায় সাত বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত সংস্থাটির নিজস্ব ঠিকানা হয়নি। প্রায় সাত বছর ধরে ফাঁড়ির কার্যক্রম চলছে একটি ভাড়া বাড়িতে।
পর্যাপ্ত জনবল ও সরঞ্জাম সংকটের কারণে প্রত্যাশিত সেবা দিতে পারছেন না ফাঁড়ির নৌ পুলিশের সদস্যরা। নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্পিডবোট বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। নৌপথের বিশাল এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জনবল সংকটেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সংস্থাটিকে।
ছাতক নৌ পুলিশ ফাঁড়ির আওতাধীন নদীগুলো হলো– ছাতক থানার সুরমা নদীর শাখা চেলা, বেরাজপুর, ইছামতী, সোনালি চেলা ও পিয়ান নদী। দোয়ারাবাজার থানার সুরমার শাখা খাসিয়ামারা, বগড়া ও নয়াগাঙ্গ। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার ধলাই ও চেঙ্গেরখাল। গোয়াইনঘাট থানার গোয়াইন, সারী ও ডাউকি নদী। কানাইঘাট থানার লোভা, ধোনা ও দেওছই নদী। জৈন্তাপুর থানার বরগা, হরিপুর ও কাপনা নদী। জকিগঞ্জ থানার সুরমা ও কুশিয়ারা নদী এবং সিলেটের জালালাবাদ থানা এলাকাসংলগ্ন সুরমার শাখা সিংড়া নদী।
নৌপথের এই বিশাল এলাকায় বর্তমানে ছাতক নৌপুলিশের দায়িত্বে রয়েছেন একজন পুলিশ পরিদর্শক, দু’জন উপপরিদর্শক, একজন সহকারী উপপরিদর্শকসহ ১১ জন সদস্য। এ জনবল নিয়েই নিয়মিত নৌপথে টহলের কাজ চলছে। এখানে নৌ পুলিশের পরিদর্শক (ওসি)সহ ১৫ জনের মঞ্জুরীকৃত পদ রয়েছে। নৌ পুলিশের সরকারি কোনো স্পিডবোট না থাকায় নদীতে অপরাধ দমন বেশ চ্যালেঞ্জিং। বর্তমানে ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকা ভাড়া নিয়ে নদীপথে টহলের কাজ চালানো হচ্ছে। নদীপথে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধে নৌ পুলিশ ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে গত ২ মাসে ১৪টি মামলা ও বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পাথর ও বালু ব্যবসার জন্য দেশজুড়ে ছাতকের পরিচিতি রয়েছে। এখান থেকে নিয়মিতই কয়েক প্রকারের পাথর ও বালি স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাল্কহেড, কার্গো ও জাহাজ দিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে থাকেন। সাম্প্রতিক সময়ে ছাতক অঞ্চলে নৌপথে চলন্ত নৌযান থেকে বেপরোয়া চাঁদাবাজি শুরু হলে সুনামগঞ্জের সাবেক পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় থানা ও নৌপুলিশের তৎপরতায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে নৌপথে চলাচলকারী নৌযান পরিচালনাকারীরা বলছেন, এখনও নানা কৌশলে নদীতে চাঁদাবাজি চলছে। নৌপুলিশের সীমাবদ্ধতা দূর হলে এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
নৌ পুলিশ ফাঁড়ির স্থায়ী কার্যালয় তৈরির লক্ষ্যে হাসপাতাল রোডে ১ কোটি ২৯ লাখ টাকায় ৩৩ শতক জমি কেনা হয়েছে। সেখানে নৌপুলিশের একটি সাইনবোর্ড টানানো হয়। তবে স্থাপনা নির্মাণের কাজ ওই সাইনবোর্ডেই থমকে আছে।
ছাতক বাজার একতা বালু উত্তোলন ও সরবরাহকারী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি আবদুস সাত্তার ও সাধারণ সম্পাদক দিলোয়ার হোসেন জানান, এখানে স্বল্প জনবল দিয়ে নৌপুলিশ ফাঁড়ির সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা নৌপথে নিরাপত্তার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন। তবে নদীতে চাঁদাবাজি নির্মূল করতে ফাঁড়িতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের পাশাপাশি আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ অত্যন্ত জরুরি।
ছাতক নৌ পুলিশের পরিদর্শক মো. আনোয়ার হোসেন জানান, স্বল্প জনবল দিয়ে নিয়মিত নদীতে টহলের কাজ অব্যাহত রেখেছেন তারা। এখানে নৌপথের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে স্পিডবোট একান্ত প্রয়োজন। তাদের অভিযানের কারণেই মূলত নৌপথে অবৈধ চাঁদাবাজি কমেছে।
নৌ পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিলেট অঞ্চলের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আবাসন সমস্যার কারণে জনবল বাড়ানো যাচ্ছে না। নৌপথে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দ্রুত একটি স্পিডবোট দেওয়ার বিষয়টি সদরদপ্তরে জানানো হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে ছাতক পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাস্টমস রোডের একটি ভাড়া বাড়িতে মাত্র ৪ জন পুলিশ সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে ছাতক নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। এ বাড়িতেই প্রায় ৭ বছর ধরে চলছে নৌ পুলিশের কার্যক্রম। ২০২০ সালে সিলেট অঞ্চলের নৌ পুলিশের বিভাগীয় কার্যক্রম চালুর পর ছাতক নৌপুলিশ ফাঁড়িকে সিলেট অঞ্চলের আওতায় আনা হয়।
- বিষয় :
- পুলিশ ফাঁড়ি
