বাবুল হত্যা নিয়ে প্রকাশ্যে লিটন-শাহরিয়ার বিরোধ
খায়রুজ্জামান লিটন, শাহরিয়ার আলম
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৪ | ০০:৫০ | আপডেট: ২৮ জুন ২০২৪ | ১০:৩৫
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের সঙ্গে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপির বিরোধ বেশ পুরোনো। বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল হত্যাকাণ্ডে সেটি প্রকাশ্যে এসেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাবুলের জানাজায় এসে এ হত্যাকাণ্ডের মদদদাতা হিসেবে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডরীর সদস্য লিটন এবং সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান আসাদের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন শাহরিয়ার। এতে ক্ষুব্ধ লিটনের অনুসারীরা। তারা শাহরিয়ারের ছবিতে ‘ক্রস চিহ্ন’ এঁকে ফেসবুকে পোস্ট করে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
এদিকে জানাজায় এসে লাঞ্ছিত হয়েছেন লিটনের অনুসারী রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অনিল সরকার। তাঁকে গলা ধাক্কা দিয়ে জানাজাস্থল থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। মেয়র লিটন বলেন, ‘বাবুলের লাশ হয়তো কারও খুব দরকার ছিল। এখন লাশ ঘিরে উদোর পিণ্ডি বুধোর কাঁধে চাপিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করছেন শাহরিয়ার আলম। তাঁর কাছ থেকে লাশ নিয়ে রাজনীতি আশা করিনি।’
গত ২২ জুন বাঘা উপজেলা পরিষদের সামনে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে বাবুলসহ অন্তত ৩০ নেতাকর্মী আহত হন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়।
গতকাল সকালে বাঘা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাবুলের জানাজা হয়। সেখানে রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের এমপি শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘বাবুলের অপরাধ ছিল তিনি শাহরিয়ারে সঙ্গে রাজনীতি করেন! খুনি আক্কাস ও মেরাজ বহিষ্কৃত– এটি দুই বছর আগে লিটনই ঘোষণা দেন। অথচ ঘোষণার সাত দিন পরই লিটনের গাড়িতে তাদের দেখেছি।’ তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডে দু’জন সশরীরে ছিলেন। কিন্তু মদদ দিয়েছেন লিটন, আসাদ ও লাভলু। তাদের নামে মামলা করা হবে।’
এক পর্যায়ে শাহরিয়ার ঘোষণা করেন, বাবুল হত্যার মদদদাতা কেউ থাকলে চলে যান। তাঁর পাশেই ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অনিল সরকার। ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে পুঠিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সামাদ এবং পুঠিয়া উপজেলা কৃষক লীগ নেতা রাজিবুল হক গলা ধাক্কা দিয়ে অনিল সরকারকে তাড়িয়ে দেন।
অনিল সরকার বলেন, ‘শাহরিয়ার আলমের ঘোষণার পর পরই আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে বলা হয়, আপনি এখানে কেন? বেরিয়ে যান। সভাপতির পদ ছাড়েন। হাত ধরে টানাটানি ও ধাক্কা দিতে থাকে কয়েকজন।’
মেয়র লিটন বলেন, শাহরিয়ার আমার নাম ধরে যে অসৌজন্যতা দেখিয়েছেন, তা কাম্য নয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা অনিল সরকারকেও লাঞ্ছিত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার এবং জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা উচিত।
- বিষয় :
- হত্যা
- রাজশাহী
- এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন
