প্রাণ গেল ধর্ষণের শিকার দু’জনের, শাস্তির দাবি
বারহাট্টায় স্কুলছাত্রী ইতি আক্তারকে ধর্ষণে জড়িত আকাশ হোসেনের শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে এলাকাবাসী- সমকাল
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪ | ১৯:৩৫ | আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪ | ১৯:৪৩
নেত্রকোনার বারহাট্টায় স্কুলছাত্রী মুক্তিরানী বর্মণের হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই আরও এক স্কুলছাত্রীকে জীবন দিতে হলো। এছাড়া নেত্রকোনা সদরের হরিদাসপুর গ্রামে এক তরুণীকেও জীবন দিতে হয়েছে। ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার বারহাট্টায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
মৃত দু’জন হলেন– বারহাট্টা উপজেলার বাউসী ইউনিয়নের পূর্ব দত্তখিলা গ্রামের মৃত দুলাল মিয়ার মেয়ে রূপচন্দ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ইতি আক্তার (১৬) ও পূর্বধলার বিন্নী গ্রামের হাফিজ উদ্দিনের মেয়ে সমলা আক্তার (২৫)।
বারহাট্টা উপজেলার প্রেমনগর ছালিপুরা গ্রামের নিখিল বর্মণের মেয়ে মুক্তিরানী বর্মণ ছালিপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তাকে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ার পথে উত্যক্ত করত একই গ্রামের কাউসার। প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় গত বছরের ২ মে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে মেয়েটিকে কুপিয়ে হত্যা করে কাউসার। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই প্রাণ দিতে হলো একই উপজেলার রূপগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ইতি আক্তারকে। গত ২০ জুলাই গ্রাম্য শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে একই গ্রামের লিটন মিয়ার ছেলে আকাশ হোসেন প্রান্ত। বিষয়টি সহ্য করতে না পেরে ইতি বাড়িতে পৌঁছে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। পরিবারের লোকজন তাকে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখান থেকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। দুই দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত সোমবার মারা যায় ইতি। এ ঘটনায় তার ভাই রাহুল আমিন বাদী হয়ে আকাশ হোসেন প্রান্তর বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার বারহাট্টা থানায় মামলা করেন।
অন্যদিকে পূর্বধলার বিন্নী গ্রামের হাফিজ উদ্দিনের মেয়ে সমলা আক্তার গত শনিবার রাতে ঘর থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরদিন রোববার নেত্রকোনা সদর উপজেলার কালিয়ারা গাবরাগাতী ইউনিয়নের হরিদাসপুর গ্রামের গাইয়েসাত্রা বিলের পাড়ে তার লাশ পাওয়া যায়। ময়নাতদন্ত শেষে লাশটি দাফন করা হয়। এ ঘটনায় নেত্রকোনা সদর থানার এসআই রাজিয়া আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশের ধারণা তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে বিলের পাড়ে লাশ ফেলে রাখা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) বাউসী বাজারে সচেতন ছাত্রসমাজ ও এলাকাবাসীর ব্যানারে এক মানববন্ধন কর্মসূচির অনুষ্ঠিত হয়। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তব্য দেন– স্কুলছাত্রী ইতির ভাই রাহুল আমিন, নারী প্রগতি সংঘ বারহাট্টার কেন্দ্র ব্যবস্থাপক সুরজিৎ ভৌমিক, রূপচন্দ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক আহমেদ, নেত্রকোনা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলপনা বেগম, নারী প্রগতি সংঘ ইয়্যুথ গ্রুপ লিডার ও মুক্তি রানী বর্মণের বোন রূপা বর্মণ প্রমুখ।
বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ বারহাট্টার কেন্দ্র ব্যবস্থাপক সুরজিৎ ভৌমিক বলেন, ‘নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা বেড়েই চলেছে। ধর্ষকদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। তা না হলে এ অবস্থা দিন দিন বাড়বে।
বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, স্কুলছাত্রী মৃত্যুর ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামি আকাশ এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
নেত্রকোনা সদর থানার ওসি আবুল কালাম জানান, গত মঙ্গলবার হাফিজ উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি মরদেহের পোশাক দেখে তার মেয়ে সমলা খাতুন (২৫) বলে সনাক্ত করেন। এ ঘটনায় হরিদাসপুর গ্রামের সাইকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে বুধবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
- বিষয় :
- স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা
- ধর্ষণ
- মৃত্যু
- নেত্রকোণা
