জুড়ী সীমান্তে বিএসএফের গুলি
বোনের সঙ্গে আর দেখা হবে না পিংকুর
স্বর্ণা দাস
জুড়ী (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | ২৩:০৬
মা-বাবার সঙ্গে ছোট বোনকে বাড়িতে রেখে ভারতে গিয়েছিলেন জুড়ীর কালনীগড় গ্রামের পিংকু দাস। সংসারের অভাব ঘোচাতে অবৈধভাবে ভারতে গেলেও পরে আর দেশে আসা হয়নি ছেলেটির। সেই ভাইকে দেখতে ভারতে যাওয়ার পথে বিএসএফের গুলিতে লাশ হয়ে ফিরেছে স্বর্ণা দাস (১৪)।
গত রোববার দালালের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা চুক্তিতে ভারত যাচ্ছিল স্বর্ণা। সে স্থানীয় নিরোদ বিহারী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। স্বর্ণার মৃত্যুতে পুরো এলাকা ও বিদ্যালয়ে চলছে মাতম। স্বর্ণাকে গুলি করে লাশ ভারতে নিয়ে যায় বিএসএফ। বেঁচে ফেরেন মাসহ স্বর্ণার সফরসঙ্গী ৪ জন। প্রায় ৪৩ ঘণ্টা পর গত মঙ্গলবার রাতে লাশ ফিরে পেয়েছে পরিবার। এ সময় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বর্ণাকে একনজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন এলাকাবাসী।
স্বর্ণার বাবা পরেন্দ্র দাস জানান, ভারতের ত্রিপুরায় তাঁর বড় ছেলে থাকেন। তাঁকে দেখার জন্য স্থানীয় দুই দালাল ধরে স্বর্ণা ও তার মা রোববার রাতে লালারচক সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিএসএফ এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে স্বর্ণা নিহত হয়।
স্বর্ণা গরিব পরিবারের সন্তান হলেও লেখাপড়ায় ভালো ছিল। স্বর্ণার ভাই পিন্টু জানায়, দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে স্বর্ণা সবার ছোট। বড় ভাই পিংকু ২০১৫ সাল থেকে ভারতে থাকেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে পিন্টু বলে, ‘আমার বোন সবার ছোট। গ্রামের সবাই তাকে আদর করত। তার শরীরে গুলির চিহ্ন ছিল।’
বিজিবি শ্রীমঙ্গল সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল মিজানুর রহমান শিকদার জানান, ভারতীয় পুলিশ ময়নাতদন্ত শেষে কুলাউড়া থানায় স্বর্ণার লাশ হস্তান্তর করে।
- বিষয় :
- জুড়ী
- সীমান্তে হত্যা
