অবশেষে বাঁধটি আটকানো গেছে, জনমনে স্বস্তি
দাকোপ উপজেলার খোনা গ্রামের ঢাকী নদীতে বিলীন হওয়া বেড়িবাঁধটি আটকাতে পাউবোর শ্রমিক ও স্থানীয়দের তৎপরতা সমকাল
দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | ২৩:৩৭
পাউবোর শ্রমিক ও স্থানীয়রা মিলে বালুভর্তি টিউব ও জিও ব্যাগ ফেলে দাকোপ উপজেলার খোনা গ্রামের ঢাকী নদীতে বিলীন হওয়া বেড়িবাঁধটি আটকাতে সক্ষম হয়েছেন। এতে জনমনে ফিরেছে স্বস্তি।
তবে এর আগেই তিন গ্রামের বসতঘর ডুবে অনেক ক্ষতি হয়েছে। পানিতে তলিয়ে আছে রোপা আমন। ভেসে গেছে দুই শতাধিক পুকুরের সাদা মাছ ও চারটি মৎস্য ঘেরের বাগদা চিংড়ি। সব মিলে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থানসহ পাউবোর ৩১ নম্বর পোল্ডারের সব ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধে দ্রুত যুগোপযোগী টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
‘আমরা আর বাপদাদার পৈতৃক সম্পত্তি নদীতে হারিয়ে সর্বস্বান্ত হতে চাই না। আমরা খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান চাই না। আমরা আমাদের এক ফসলি জমির ওপর আমন ধান বপন করে পরিবার পরিজন নিচে বাঁচতে চাই’–বলছিলেন উপজেলার খোনা গ্রামের কৃষক চিত্তরঞ্জন বাইন।
গত ১০ বছরে নদীভাঙনের কারণে ৩১ নম্বর পোল্ডারের চালনা পৌরসভাসহ দুটি ইউনিয়নের প্রায় এক হাজার বিঘা আমন ফসলের জমি, দুই হাজারের বেশি বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। তাই শুধু চিত্তরঞ্জন বাইন একা নন, তাঁর মতো নদীভাঙনের শিকার কৃষক আবদুল্লাহ ফকির, নজরুল ফকির, সত্যরঞ্জন বিশ্বাস, রাসেল মোল্যা, খোকন মোল্যা, পরিতোষ মণ্ডলসহ আরও অনেকে টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
গত ৬ সেপ্টেম্বর উপজেলার ১ নম্বর পানখালী ইউনিয়নের খোনা গ্রামে মোল্যাবাড়ির দক্ষিণ পাশে ঢাকী নদীতে বিলীন হয় পাউবোর ৫০ মিটার বেড়িবাঁধ। বাঁধ ভাঙার পর লোকালয়ে ঢুকে পড়া নদীর পানি বিকেলের ভাটায় নেমে গেলেও পাউবোর শ্রমিকরা রাতভর বাঁধটি তাৎক্ষণিক আটকাতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। তবে প্রায় ৩২ ঘণ্টা পর গতকাল শনিবার বিকেল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পাউবোর শ্রমিক ও স্থানীয়রা টানা কাজ করে বাঁধটি আটকাতে সক্ষম হন।
পানখালী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ সাব্বির আহম্মেদ জানান, শুক্রবার দুপুরে পাউবোর বেড়িবাঁধটি ঢাকী নদীতে বিলীন হয়। সেদিন বিকেলে ভাটায় পানি নেমে গেলে পাউবোর নেতৃত্বাধীন শ্রমিক ও স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধটি আটকানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হতে হন। তবে বাঁধ ভাঙার ৩২ ঘণ্টা পর বিরতিহীন কাজ করে ভেঙে যাওয়া বাঁধটি আটকাতে সক্ষম হয়েছেন তারা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শেখ আবদুল কাদের বলেন, খোনা গ্রামের বাঁধ ভেঙে তিন গ্রামের ১৯৭টি পরিবার সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সুজয় কর্মকার বলেন, নদীতে বিলীন হওয়া খোনা গ্রামের বাঁধ ঘটনার দিনই আটকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু বাঁধের পাশে গভীরতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ৩১ নম্বর পোল্ডারের ৪৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নদী শাসনপূর্বক টেকসই ও যুগোপযোগী বাঁধ নির্মাণের জন্য এরই মধ্যে সব নকশা ও পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই এ পোল্ডারের বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু করা হবে বলে তিনি আশা করছেন।
- বিষয় :
- নদী রক্ষা
