তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন চাইলেন ইবি শিক্ষার্থীরা
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সব আন্তর্জাতিক নদীর ন্যায্য হিস্যা ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৪ | ২০:১৩
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সব আন্তর্জাতিক নদীর ন্যায্য হিস্যা ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অধ্যয়নরত রংপুর বিভাগের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। এ সময় তারা ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে’ গজলডোবা বাঁধ খুলে রংপুরের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির প্রতিবাদ জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ফের প্রধান ফটকে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় আল কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ এবিএম জাকির হোসেন, জিওগ্রাফি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইনজামুল হক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক এসএম সুইটসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীরা কর্মসূচিতে ‘উত্তরবঙ্গের সঙ্গে বৈষম্য, আর না আর না’, ‘ত্রাণ নয়, স্থায়ী সমাধান চাই’, ‘উত্তরের কান্না, চুপ কেন বাংলা’ লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। সমন্বয়ক এসএম সুইট বলেন, রংপুরের বন্যা কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি করা। এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। তারা দ্রুত আন্তর্জাতিক নদীর বিষয়ে সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
শিক্ষক ইনজামুল হক বলেন, ‘আমাদের পানির ন্যায্য হিস্যা দেওয়া হচ্ছে না। তিস্তার পানি আসার কথা উত্তরবঙ্গের মধ্য দিয়ে। কিন্তু সেটি পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভারত এক তিস্তায় বাঁধ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ৩৪টি। এর মধ্যে ১৭টি বাস্তবায়ন করেছে। আগের সরকারের সময়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বলা হয়েছে। তবে তাদের নতজানু নীতির ফলে বাস্তবায়ন হয়নি।’ দ্রুত এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুশিয়ারি দেন তিনি।
অধ্যাপক ড. শেখ এবিএম জাকির হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক নদী নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের অন্যায় এ দেশের মানুষ মেনে নেবে না। ভারতের কাছে নদীর পানির ন্যায্যতা চান বলে জানান তিনি।
