নেত্রকোনায় ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২০ | ০৩:৪৮
নেত্রকোনায় নিজ ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সকালে সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের দরিজাগি গ্রাম থেকে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতরা হলেন- একই গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদ খার ছেলে কৃষক নুরে আলম উজ্জ্বল (৪০) ও তার স্ত্রী রুবী আক্তার (৩২)।
উজ্জ্বলের মা জাহেরা খানম জানান, ভোরে ফজরের নামাজের পর তিনি ছেলের ঘরের ভেতরের দরজা খুলে ড্রেসিং টেবিলের উপর থেকে চাবি আনেন। সকাল সাতটার দিকে ছেলে ও ছেলের বউ ঘুম থেকে না জাগায় তিনি ছেলের রুমে খোঁজ নিতে যান। এ সময় তিনি ছেলেকে ফ্যানের সাথে গলায় দঁড়ি দেয়া অবস্থায় ঝুলতে আর ছেলের বউকে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তিনি চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন এবং পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুল আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোর্শেদা খাতুন, নেত্রকোনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুল আলম জানান, উজ্জল আগে আরেকটি বিয়ে করেছিলেন। ১৭ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের কোন সন্তান না হওয়ায় প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দুই বছর আগে তিনি মামাতো বোন ও সাতবুড়িকান্দা গ্রামের আবদুল আজিজের মেয়ে রুবী আক্তারকে বিয়ে করেন। এটি তার দ্বিতীয় বিয়ে। বিয়ের পর স্ত্রীর কথায় বিভিন্ন এনজিও এবং ব্যক্তির কাছ থেকে ঋণ নিয়ে উজ্জ্বল বাড়িতে আধাপাকা বাড়ি করেন। তিনি আরও জানান, মৃত্যুর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মৃতের স্বজন ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, ঋণের চাপে অথবা দাম্পত্য কলহের জের ধরে ঝগড়ার এক পর্যায়ে স্ত্রীকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যার পর স্বামী ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন।
- বিষয় :
- নেত্রকোনা
- স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার