ঢাকা রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

বনের বাঘিনি বনে ফিরছে আজ, চোখ রাখবে ২০ ক্যামেরা

দেশে এই প্রথম চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বনে ফিরছে বাঘিনি

বনের বাঘিনি বনে ফিরছে আজ, চোখ রাখবে ২০ ক্যামেরা
×

হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে আহত হওয়া বাঘিনি

খুলনা ব্যুরো

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ | ০৪:৫৩

সুন্দরবনে হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে আহত হওয়া সেই বাঘিনি সেরে উঠে ফিরে যাচ্ছে বনেই। শনিবার রাতে খুলনা নগরীর বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে তাকে নিয়ে রওনা দেন কর্মকর্তারা। আজ রোববার সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্রসংলগ্ন বনাঞ্চলে বাঘিনিটিকে অবমুক্ত করা হতে পারে।  

এই ঘটনাকে ‘যুগান্তকারী পদক্ষেপ’ বলে দাবি করছে বন বিভাগ। বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো সুন্দরবনে অসুস্থ বাঘকে সুস্থ করে বনে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটি দেশের প্রাণী চিকিৎসায় নতুন উদাহরণ হলো।’    

এবার বনে ফিরে বাঘিনি কেমন আচরণ করবে, সেসব নজরে রাখতে সুন্দরবনের প্রায় আট কিলোমিটারজুড়ে ২০টি ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানো হয়েছে ইতোমধ্যে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘জুলাই মাসের মধ্যেই বাঘিনিটিকে সুন্দরবনে ফিরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। বনে ফিরে প্রকৃতিতে টিকে থাকতে তার কোনো চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হচ্ছে কিনা, সেসব বোঝার জন্য বিভিন্ন প্রস্তাব ছিল। এর মধ্যে আধুনিক ট্র্যাকিং ডিভাইস হিসেবে স্যাটেলাইট কলার ছিল অন্যতম। কিন্তু তা সংগ্রহ করা যায়নি। এর বিকল্প হিসেবে বাঘিনির বিচরণ এলাকায় প্রায় আট কিলোমিটারজুড়ে প্রাথমিকভাবে ২০টি ট্র্যাপ ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।’ এসব ক্যামেরা দিয়ে বাঘিনির গতিবিধিতে চোখ রাখা হবে।    

গত ৩ জানুয়ারি বৈদ্যমারী ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির আওতাধীন শরকির খালসংলগ্ন বনাঞ্চলে একটি বাঘিনির ফাঁদে আটকে পড়ার খবর পায় বন বিভাগ। পরদিন ৪ জানুয়ারি ট্রানকুইলাইজার গান দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে বাঘিনিটিকে উদ্ধার করা হয়; পরে ফাঁদ কেটে লোহার খাঁচায় ভরে খুলনায় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে আনা হয়।    

বর্তমানে বাঘিনিটি পুরোপুরি সুস্থ বলে জানালেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ খুলনা কার্যালয়ের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার। তিনি বলেন, ‘বাঘিনিটির বয়স ১০ থেকে ১১ বছর। সামনের বাঁ পায়ে প্রায় তিন ইঞ্চি জায়গাজুড়ে চামড়া, মাংসপেশি ও শিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ফাঁদের রশিতে বারবার টানাটানির কারণে ক্ষতস্থানে পচন ধরেছিল। অ্যান্টিবায়োটিক ও নিয়মিত ড্রেসিং করানো হলো মার্চের দিকে ক্ষত শুকিয়ে আসে। সেই সঙ্গে হারানো ক্ষিপ্রতা ও গতিও ফিরে পায় বাঘিনি।’    

আরও পড়ুন

×