ঢাকা রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

যশোরে পুলিশের বিরুদ্ধে কলেজছাত্রকে নির্যাতনের অভিযোগ

যশোরে পুলিশের বিরুদ্ধে কলেজছাত্রকে নির্যাতনের অভিযোগ
×

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইমরান -সমকাল

যশোর অফিস

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২০ | ০৮:১০

পুলিশের ভয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করায় এক কলেজছাত্রকে পিটিয়ে শয্যাশায়ী করার অভিযোগ উঠেছে। শারীরিক নির্যাতনে ইমরান হোসেন নামে ওই ছাত্রের দু’টি কিডনিই মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গুরুতর অবস্থায় তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অমানবিক এই পুলিশি নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে যশোর সদরের চূড়ামনকাটি এলাকায়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। আর পুলিশের দাবি, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যশোর সদর উপজেলার কাজী নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ইমরান হোসেন অভিযোগ করেন, গত বুধবার সন্ধ্যায় সলুয়া বাজার থেকে একবন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশায় চড়ে চূড়ামনকাটি ইউনিয়নের শাহাবাজপুরের বাড়িতে ফিরছিলেন। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মনে পৌছুলে সাজিয়ালি ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা তাদের গতিরোধ করে ব্যাগ তল্লাশি শুরু করে। এতে ভয়ে ইমরান দৌড় দিলে পুলিশ ধাওয়া করে তাকে ধরে ফেলে। এসময় পুলিশের বেধড়ক মারপিটে জ্ঞান হারান তিনি। পরে একটি ফার্মেসিতে নিয়ে মাথায় পানি ঢালার পর তার জ্ঞান ফেরে। তখন পুলিশ তার পকেটে গাঁজা দিয়ে আটকের কথা বলে। এরপর ইমরানের বাবাকে ফোন দিয়ে তাকে ছাড়তে ২৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। ইমরানের পরিবার ৬ হাজার টাকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।

তিনি জানান, পুলিশ এ ঘটনা কাউকে বললে রিমান্ডে নিয়ে ফের মারপিটের হুমকি দেওয়ায় তারা বিষয়টি কাউকে বলেননি। কিন্তু এরপর তার অবস্থার অবনতি হলে রোববার তাকে যশোরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হয়।

অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিচার দাবি করে ইমরানের মা বুলবুলি বেগম বলেন, রাস্তায় ফেলে লাথি ও মারপিট করায় তার ছেলের এমন অবস্থা হয়েছে। তার দু’টি কিডনিই এখন প্রায় অকেজো হয়ে গেছে।

যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিডনী রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. উবায়দুল কাদির উজ্জ্বল বলেন, ইমরানের অবস্থা আশঙ্কজনক। তার দু’টি কিডনিই কাজ করছে না। তাকে ডায়ালাইসিস দেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।

এদিকে সাজিয়ালি ক্যাম্পের সহকারী উপপরিদর্শক সমরেশ সাহা দাবি করেন, তারা ইমরানকে মারপিট করেননি। তাকে রাস্তা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক আলমগীরের কাছে হস্তান্তর করি। তার পকেটে ১০ গ্রাম গাাঁজা পাওয়া গেলেও স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির অনুরোধে তাকে সতর্ক করে ছেড়ে দেই।

যশোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ আশরাফ হোসেন বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশের কেউ এ নির্যাতনে জড়িত হলে তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×