মামার পাঠানো টাকা আত্মসাতে ‘ছিনতাই নাটক’ সাজান ভাগিনা
গ্রেপ্তার আব্দুল হক ও তার সহযোগী রাশেদ -সমকাল
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২০ | ০৯:০৬
যুক্তরাজ্য প্রবাসী মামা ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মাধ্যমে দেশে ৩ লাখ ৬ হাজার টাকা পাঠিয়েছিলেন। এই টাকাগুলো ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে গ্রামের বাড়িতে পাঠানোর দায়িত্ব দিয়েছিলেন ভাগিনাকে। এই ‘বিশ্বাসকে’ ভাগ্নে আব্দুল হক ‘সুযোগ’ হিসেবে দেখে পুরো টাকা মেরে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের পর নিজের সহযোগীদের দিয়ে ছিনতাই নাটক সাজান। কিন্তু বেরসিক পুলিশের জন্য ‘পরিকল্পনা’ ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি এক সহযোগীসহ ভাগিনা এখন কারাগারে।
সোমবার যুক্তরাজ্য প্রবাসীর ভাতিজা রিদানুল ইসলাম আজাদ বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এতে আসামিরা হলেন- নগরীর পশ্চিম পাঠানটুলার নিবাস ১৬ নম্বর বাসার মো. রমজান আলীর ছেলে মো. আব্দুল হক (১৯), নগরীর আখালিয়া ঘাটের এসডি ভবনের মৃত শামসুদ্দোহা খানের ছেলে আব্দুল্লাহ আল সাদী (১৯), ব্রাহ্মণশাসনের উদ্দীপন বি-৪ নম্বর বাসার মো. মারুফ আহমদের ছেলে কামরান মিয়া (২০) ও সদর উপজেলার ডালিয়া গ্রামের রাশেদ (২০)। এই মামলায় ভাগিনা আব্দুল হক ও রাশেদকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ।
রোববার দুপুরে নগরীর পাঠানটুলার রূপালী ব্যাংকের শাখা থেকে তিন লাখ টাকা উত্তোলন করেন আব্দুল হক। এরপর পকেটে টাকা নিয়ে বেরিয়ে আসার পর তাকে অপহরণ করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। একটি সিএনজি টোরিকসাযোগে চারজন তাকে জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। নগরীর গোয়াবাড়ি এলাকার চা বাগানে নিয়ে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে টাকা নিয়ে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায় বলেও জানান আব্দুল হক। এরপর মহানগর পুলিশ কন্টোল রুমে তিনি সব টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেন।
এমন অভিযোগ পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ তদন্তে নেমে ব্যাংকের সামনের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। এছাড়া ব্যাংকের আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পুলিশের সন্দেহ হয় বলে জানান মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. জেদান আল মুসা। তিনি বলেন, ছিনতাইয়ের অভিযোগের সঙ্গে পারিপার্শ্বিক কিছু অসংলগ্নতা থাকায় পুলিশ আব্দুল হক ও তার কিশোর ছোট ভাই নাজমুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এরপর আব্দুল হককে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, রোববার দুপুরে আব্দুল হক ছোট ভাই নাজমুলকে নিয়ে রূপালী ব্যাংক থেকে পিন নম্বরের মাধ্যমে ৩ লাখ ৬ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। এরপর তিনি ৫১ হাজার টাকা ছোট ভাইয়ের কাছে রাখেন এবং বাকি ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা নিজের কাছে রাখেন। দু’জনে ব্যাংক থেকে বের হওয়ার পর পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী আব্দুল হকের সহযোগী আব্দুলাহ আল সাদী, কামরান মিয়া ও রাশেদ একটি অটোরিকসায় এসে তাকে তুলে নিয়ে যায়। এ অবস্থায় নাজমুল ছিনতাই হয়েছে বলে দৌঁড়ে বাসায় গিয়ে সবাইকে জানায়।
এরপর ব্লেড দিয়ে নিজের হাত কেটে ছিনতাইকারী আঘাত করেছে দাবি করে সাদীর কাছে সব টাকা রেখে বাসায় ফিরেন আব্দুল হক। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুল হক সব স্বীকার করার পর সহযোগী সাদীর বাসা থেকে আত্মসাৎ করা আড়াই লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এই সময় নগরীর আখালিয়া ঘাটের এসডি ভবনের বাসায় সাদীকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া আব্দুল হকের ঘর থেকে ছোট ভাই নাজমুলের সহযোগিতায় ৫১ হাজার টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। পাশাপাশি পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে সহযোগী রাশেদকে গ্রেফতার করে।
এই ঘটনায় জড়িত অপর দু’জনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. জেদান আল মুসা।
- বিষয় :
- প্রবাসী
- সিলেট
- ছিনতাই নাটক