গরুর সঙ্গেও শত্রুতা?
পুড়ে যাওয়া গোয়ালঘর- সমকাল
নড়াইল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৪ | ১৭:৪৩ | আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৪ | ১৮:০১
প্রান্তিক কৃষক ইসমাইল ফকির (৬৫) ও তার স্ত্রী শেফালী বেগম চুরির ভয়ে প্রতিদিন রাতে পালাক্রমে গোয়াল খামারের পাঁচটি গরু পাহারা দিতেন। এর মধ্যে দুটি ছিল গর্ভবতী। গোখাদ্যের ভীষণ অভাবের মধ্যেও তারা ধার-দেনা করে পশু লালন-পালন করছিল। স্বপ্ন ছিল দুটি গরুর দুধ বিক্রি করে পরিবারের বাড়তি আয় হবে। কিন্তু রাতের বেলা গোয়াল ঘরে আগুন দেওয়ায় পাঁচটি গরু ও গোয়াল ঘর পুড়ে তাদের সে আশা শেষ হওয়ার পথে। মঙ্গলবার রাতে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পুরুলিয়া ইউনিয়নের নোয়াকগ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত ইসমাইল ফকির বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো আমি ও আমার স্ত্রী বাড়ির সঙ্গে লাগোয়া গোয়াল ঘর পালাক্রমে পাহারা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ রাত আড়াইটার দিকে দেখি, গোয়াল ঘরের কোনায় আগুন। তখন প্রতিবেশী নেয়ামত ফকির ও তার ছেলে আমানুল্লাহ ফকির, মানিক শেখ ও আবদুল্লাহ শেখকে দৌঁড়ে পালিয়ে যেতে দেখি। এ সময় চিৎকার দিলে ও পার্শ্ববর্তী মসজিদের মাইকে গ্রামবাসী ঘোষণা দিলে তারা এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন।’
তিনি বলেন, ‘গোয়ালে পেট্রল দিয়ে আগুন দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আমার কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। অনেক কষ্ট ও ধার-দেনা করে গরুগুলো বড় করার চেষ্টা করছিলাম। এখন সব শেষ হয়ে গেল। দুটি গরুর অবস্থা আশংকাজনক। বাকিগুলোর চিকিৎসা চলছে। গোয়াল ঘরটিও পুড়ে গেছে।’
এ বিষয়ে গ্রামবাসী গোলাম মোস্তফা বলেন, ইসমাইল ফকির ও নেয়ামত ফকির একই বংশের। তারা একে অপরের নিকটাত্মীয়। দীর্ঘ বছর ধরে তাদের মধ্যে জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। পূর্ব শত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন।
কালিয়া থানার ওসি রাশেদুল ইসলাম বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। উপজেলা পশু চিকিৎসক গরুগুলোকে চিকিৎসা দিচ্ছে। এর মধ্যে দুটির অবস্থা আশংকাজনক। মামলা এখনও হয়নি। মামলা হলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।
