ঢাকা রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

প্রকৃতি

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে রঙের মেলা

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে রঙের মেলা
×

সোনালুর রঙে রঙিন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস - সমকাল

মেরিনা লাভলী, রংপুর

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২০ | ১২:০০

গ্রীষ্ফ্মের নির্মল বাতাসে দুলছে হলুদ-সোনালি রঙের থোকা থোকা সোনাঝরা সোনালু। ঋতুরাজকেও হার মানানো সৌন্দর্য নিয়ে ফুটেছে লাল কৃষ্ণচূড়া, জারুল। গাছে গাছে পাখির কলতান, ফুলে ফুলে রঙিন প্রজাপতি ও ভ্রমরের ছোটাছুটি। প্রকৃতির অভয়ারণ্য হয়ে ওঠা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে দিনদুপুরে ঘুরে বেড়ায় শেয়াল ও বেজির দল। সবুজের ভিড়ে খেলা করে প্রজাপতি।
২০০৮ সালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় অস্থায়ী ভিত্তিতে রংপুর টিচার্স ট্রেনিং কলেজে যাত্রা শুরু করে। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা-কুুড়িগ্রাম মহাসড়কের পাশে ৭৫ একর জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের কার্যক্রম শুরু হয়। ইট-পাথরের ভবন ছাড়া অন্য কোথাও এক চিলতে ছায়ার নিচে দাঁড়ানোর মতো জায়গা ছিল না বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। এই বৃক্ষশূন্য প্রান্তরে ২০১৩ সালে নিজে দুই হাজার টাকা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০ গাছ লাগান বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ব্যক্তি, সংগঠন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নিয়ে তিনি এই বৃক্ষরোপণ ও সংরক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন। বর্তমানে প্রায় ৩৪ হাজার গাছে পরিপূর্ণ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। এসব বৃক্ষের সুবাদে তপ্ত রোদেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি রাস্তায় ছায়া আর বাতাস খেলা করে।
চির পরিচিত আম, কাঁঠাল, জাম, লিচু, কতবেল কিংবা জামরুল ইত্যাদি বৃক্ষ ছাড়াও এ প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩৪ হাজার গাছের মধ্যে রয়েছে বহেড়া, অর্জুন, হরীতকী, শাল, সেগুন, সোনালু, কাঠগুয়া, মহুয়া, জাত নিম, ঘোড়া নিম, জয়তুন, আমলকী, কাঠলিচু, চন্দন, রাধাচূড়া, পলাশ, বকফুল, তেঁতুল, বকুল, পাকুড়, বট, হিজল, অশোক, সাতকড়া, দারুচিনি, বিজলঘণ্টা, কদম, শিমুল ইত্যাদি। তবে শুরুতে গাছ রোপণ ও পরিচর্যা করা ছিল কঠিন ব্যাপার। ড. তুহিন ওয়াদুদ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে গাছের পরিচর্যা, পানি ও সার দেওয়া কার্যক্রম পরিচালনা করেন। বর্তমানে গাছগুলোর পরিচর্যা করে চলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ কর্মচারী বুলবুল হোসেন, আব্দুর রহিম, প্রদীপ কুমার, শফিকুল ইসলাম, নুরুন্নবী ও খালেদুল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহ ফরিদও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী বুলবুল হোসেন (৪৫) বলেন, গাছগুলোকে আমরা নিজের সন্তানের মতোই লালন-পালন করি। এমন সবুজ ক্যাম্পাস হয়ে ওঠায় আমরা আনন্দিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিন জহির বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় এত গাছ ছিল না। এখন অনেক গাছ, অনেক প্রজাতির পাখি এমনকি নানা প্রাণীও দেখা যাচ্ছে। লকডাউনের পর শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে এসে অন্যরকম প্রাকৃতিক পরিবেশ পাবে।
বদরগঞ্জ উপজেলার শিক্ষক সাইয়েদুল হক সাথী বলেন, করোনা ক্রান্তিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ প্রকৃতি হৃদয়কে মুগ্ধ করে। এখানকার বৃক্ষ, লতা, গুল্ম শিক্ষার্থীদের পরিবেশমনস্ক করে তুলবে।
ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ২০১৩ সাল পর্যন্ত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ছায়াময় স্থান ছিল না। প্রখর রোদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তির সহযোগিতা নিয়ে আমরা শতাধিক প্রজাতির ৩৪ হাজার গাছ রোপণ করেছি। ক্যাম্পাসের তাপমাত্রা যেমন সহনীয় হয়ে উঠেছে, তেমনি এটি প্রাকৃতিক নিসর্গ হয়ে উঠেছে। নিকট ভবিষ্যতে এটি বৃক্ষের জাদুঘর হয়ে উঠবে।

আরও পড়ুন

×