ঢাকা রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

নরসুন্দার পাড়ে সাইনবোর্ড লাগিয়ে ভূমি দখল

নরসুন্দার পাড়ে সাইনবোর্ড লাগিয়ে ভূমি দখল
×

কিশোরগঞ্জ শহরের রাকুয়াইল এলাকায় প্রভাবশালী নূরউদ্দিনের নামে নরসুন্দায় জমি দখলের সাইনবোর্ড - সমকাল

সাইফুল হক মোল্লা দুলু, কিশোরগঞ্জ

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২০ | ১২:০০

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পাট গবেষণা কেন্দ্রের মূল ফটকের সম্মুখস্থানে নদীর পাড়ঘেঁষা ওয়াকওয়ের ভেতরে দেড় কোটি টাকার মূল্যের ১০ শতাংশ জমি রয়েছে। এলাকার প্রভাবশালী ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত রাকুয়াইল এলাকার মৃত আবদুর রহমানের ছেলে মো. নূরউদ্দিন সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে ওই নদীর পাড় দখল করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার ঝোলানো 'সাইনবোর্ড' দেখে শহরের সুশীল সমাজের নেতৃস্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। তারা এই সাইনবোর্ড দ্রুত উচ্ছেদ করার দাবি জানিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসী জানায়, গত ৩ জুন এলাকার প্রভাবশালী কতিপয় যুবককে নিয়ে নূরউদ্দিন নদীপাড়ের ওই ভূমিতে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে তার দখলদারিত্ব কায়েম করেন। এ সময় তিনি বলেন, কয়েকদিনের মধ্যে তিনি দখলকৃত ভূমিতে দেয়াল দিয়ে স্থাপনা তৈরি করবেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সাইনবোর্ডে লেখা আছে- 'এই জমি ল্যান্ডসার্ভে ট্রাইব্যুনাল কিশোরগঞ্জ মোকদ্দমা নং ৮৪২৫-২০১৪ এর ডিক্রিমূলে রেকর্ড সংশোধনপূর্বক জমা খারিজ করতঃ ওয়ারিশ সূত্রে অত্র জামির মালিক ও দখলদার মো. নূরউদ্দিন'। জমির তফসিল বর্ণনাও দেওয়া আছে ওখানে।
কিশোরগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, নদীপাড়ের ভূমি এভাবে দখল করা সম্পূর্ণ বেআইনি। যারা এ কাজটি করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিশোরগঞ্জ সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের সভাপতি এনায়েত করিম অমি বলেন, 'নরসুন্দা লেকসিটি বাস্তবায়নের সময় প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার বড় বড় বহুতল স্থাপনা ভেঙে উচ্ছেদ করা হয়। হঠাৎ করে এমন সাইনবোর্ড দেখে শহরের মানুষ হতবাক হয়েছে। আশা করি প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।'
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত নূরউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'উত্তরাধিকার সূত্রে এই ভূমির মালিক আমি। তাই সাইনবোর্ড দিয়ে ভূমির দখল নিয়েছি।'
কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজ বলেন, 'নদীপাড়ের ওই জায়গার মালিক ও স্বত্ববান হলেও নদীর অংশ হিসেবে সে তা পাবে না। কারণ এ ব্যাপারে হাইকোর্টসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা রয়েছে। তাছাড়া ওয়াকওয়ে পর্যন্ত ভূমি সিএস মূলে নদীর অংশ। তাই তার দাবি সম্পূর্ণ বেআইনি।'
কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দুলাল চন্দ্র সূত্রধর বলেন, 'নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ সরেজমিনে গিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে সাইনবোর্ড উচ্ছেদ করে নদীর ভূমি পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা নেব।'

আরও পড়ুন

×