দুই দফা দাবিতে শাখা ডাকঘর কর্মচারীদের মানববন্ধন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি
ছবি: সমকাল
রংপুর অফিস
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ | ১৭:২৭
বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। রোববার দুপুর একটার দিকে রংপুরের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী সমিতি ও বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী ঐক্য পরিষদের রংপুরের নেতারা এই স্মারকলিপি দেন।
এর আগে রংপুর প্রধান ডাকঘরের সামনে শাখা ডাকঘরের কর্মচারীরা একত্রিত হয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এ সময় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী সমিতির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি বাদল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদুর রহমান, দিনাজপুর ডাকঘর কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব, নীলফামারী জেলা কমিটির সদস্যসচিব জামিল আহম্মেদ, গাইবান্ধা জেলা কমিটির সদস্যসচিব আবু জাহিদ, রংপুর জেলা কমিটির সভাপতি শাহাবুল ইসলাম ও উপদেষ্টা সদস্য গোলাম সরওয়ার বুলবুল।
বক্তারা বলেন, গত ৩ জুলাই থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য শাখা ডাকঘরগুলোতে তালা ঝুলিয়ে আমরা আন্দোলনে নেমেছি। চিঠিপত্র আদান-প্রদান সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী বরাবর দেওয়া ওই স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে বর্তমানে ডাক বিভাগের ৯ হাজার ৯৭৪টি ডাকঘরের মধ্যে ৮ হাজার ৫৪৩টিই শাখা ডাকঘর। এসব ডাকঘরে ২৩ হাজার ২১ জন কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই শাখা ডাকঘর কর্মচারীরা বিভিন্ন সেবা দিয়ে এলেও বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে শাখা ডাকঘর কর্মচারীদের ১৩ ধাপে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পরে বর্তমানে একজন ইডি এসপিএম মাসিক বেতন-ভাতা পান ৫ হাজার ৮৪১ টাকা, শাখা পোস্টমাস্টার ৪ হাজার ৮৪৬ টাকা, চিঠিবিলিকারী ৪ হাজার ৩৫৪ টাকা, রানার ৪ হাজার ১৭৭ টাকা এবং নাইট গার্ড ও অন্যান্য কর্মচারী পান ৪ হাজার টাকা। এই সামান্য বেতনে বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে জীবনযাপন করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।
এতে আরও বলা হয়, একই ধরনের দায়িত্ব পালন করলেও বিভাগীয় কর্মচারীদের তুলনায় শাখা ডাকঘর কর্মচারীরা অনেক কম বেতন পান। ২০১৮ সালের পর তাঁদের আর কোনো বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা হয়নি। পাশাপাশি তাঁরা কোনো উৎসব ভাতা ও অন্যান্য ভাতাও পান না। দাবি আদায়ে ২০২৪ সাল থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি।
স্মারকলিপিতে শাখা ডাকঘর কর্মচারীর জীবনমান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
- বিষয় :
- রংপুর