ঢাকা রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

দরজা খুলেই দেখলেন শাশুড়ির রক্তাক্ত লাশ, পাশের কক্ষে কাঁদছিল দুই বছরের মেয়ে

দরজা খুলেই দেখলেন শাশুড়ির রক্তাক্ত লাশ, পাশের কক্ষে কাঁদছিল দুই বছরের মেয়ে
×

নিহত শাহিদা বেগম ও তার পরিবার

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ | ১৮:২১ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬ | ১৮:৪১

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলার বাসায় শাহিদা বেগম (৬৮) নামে এক বৃদ্ধাকে হত্যা করে নগদ টাকাসহ স্বর্ণালঙ্কার লুট করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার রাতে বহুতল ভবনের সাতলার একটি ফ্ল্যাটে তাকে হত্যা করা হয়। পুলিশের প্রাথমিকভাবে ধারণা, ডাকাতি ও লুটপাটের উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

নিহতের স্বজনরা জানান, শাহিদা বেগমের দুই ছেলে ও এক মেয়ে। একমাত্র ছেলে বিল্লাল হোসেন মালয়েশিয়াপ্রবাসী। পুত্রবধূ শারমিন আক্তার এবং দুই শিশু নাতনিকে নিয়ে শাহিদা নিজেদের ফ্ল্যাটে বাস করতেন। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সীতলাই এলাকায়।

শারমিন আক্তারের ভাই শামিম হোসেন জানান, শারমিন দাঁতের চিকিৎসক। দনিয়ায় তার চেম্বার রয়েছে। প্রতিদিন বিকেলে তিনি চেম্বারে যান আর রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে বাসায় ফেরেন। শনিবার বিকেলে ছয় বছর বয়সী বড় মেয়ে ফারিস্তাকে নিয়ে শারমিন চেম্বারে যান। দুই বছরের ছোট মেয়ে ফাইজাকে দাদি শাহিদা বেগমের সঙ্গে বাসায় ছিল। রাত সোয়া ৯টার দিকে শারমিন বাসায় ফিরে দেখেন, ফ্ল্যাটের প্রধান দরজা বাইরে থেকে লাগানো। তিনি দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে শাশুড়িকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পাশের কক্ষে দুই বছরের মেয়েটি কাঁদছিল। দুর্বৃত্তরা তার কোনো ক্ষতি করেনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। লাশের আলামত সংগ্রহের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরাও উপস্থিত হন ঘটনাস্থলে। 

শামিম জানান, বাসার আলমারি ভাঙা। আলমারির মধ্যে থেকে পুলিশ একটি শাবল ও ভাঙা কেঁচি উদ্ধার করেছে। ধারণা, দুর্বৃত্তরা সেগুলো নিয়ে এসেছিল। বাসা থেকে স্বর্ণের চেইন, আংটি ও কানের দুল এবং নগদ ৫-৬ হাজার টাকা লুট হয়েছে। 

পুলিশ জানায়, সাততলা ভবনটির নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। এরপরও অনেকেই ফ্ল্যাটে উঠে বসবাস শুরু করেছেন। সাততলার একটি ফ্ল্যাটের কাজ চলমান।

যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ রাজু সমকালকে বলেন, দুর্বৃত্তরা বৃদ্ধার গলার ডান দিক থেকে ধারালো চাকু দিয়ে আঘাত করেছে। গলার ভেতরে ক্ষত হয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। ঘটনাস্থালেই তার মৃত্যু হয়। দুর্বৃত্তরা ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে লুটপাট চালায়। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আজ রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত মামলা হয়নি। 

ওসি আরও বলেন, সাততলা ভবনে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা নেই। আশপাশের ভবনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পুলিশের একাধিক টিম অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুন

×