প্রাথমিক বৃত্তির ফলাফলে এগিয়ে মেয়েরা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ | ১৯:২৯
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে সরকার। এবার সারাদেশের মোট ৭৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন এবং সাধারণ ক্যাটাগরিতে ৪৬ হাজার ২৮১ জন নির্বাচিত হয়েছে। ফলাফলে সব সূচকেই এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। একই সঙ্গে আগামী বছর (২০২৬) থেকে প্রাথমিক বৃত্তির অর্থ দ্বিগুণ করারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ফলাফল ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ফল ঘোষণা করে মন্ত্রী বলেন, আগামী বছর থেকে বৃত্তির অর্থ প্রায় দ্বিগুণ করা হচ্ছে। ট্যালেন্টপুলের মাসিক বৃত্তি ৩০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তি ২২৫ টাকা থেকে ৪৫০ টাকায় উন্নীত করা হবে। এককালীন অনুদানও ২২৫ টাকা থেকে ৪৫০ টাকায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে নতুন এই হার ২০২৬ সালের বৃত্তিপ্রাপ্তদের জন্য কার্যকর হবে।
মেয়েদের সাফল্য চোখে পড়ার মতো
বৃত্তির ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ বছর বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্র ৩৫ হাজার ৮৯২ জন (৪৫ দশমিক ২৯ শতাংশ) এবং ছাত্রী ৪৩ হাজার ৩৫৪ জন (৫৪ দশমিক ৭১ শতাংশ)। অর্থাৎ ছেলেদের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি ছাত্রী বৃত্তি পেয়েছে।
ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্র ১৬ হাজার ৩৯৮ জন এবং ছাত্রী ১৬ হাজার ৫৬৭ জন। অন্যদিকে সাধারণ ক্যাটাগরিতে ছাত্র ১৯ হাজার ৪৯৪ জনের বিপরীতে ছাত্রী ২৬ হাজার ৭৮৭ জন বৃত্তি পেয়েছে।
সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়ের চিত্র
ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত ৩২ হাজার ৯৬৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৬ হাজার ৩৭৫ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৬ হাজার ৫৯০ জন রয়েছে।
সাধারণ ক্যাটাগরিতে বৃত্তিপ্রাপ্ত ৪৬ হাজার ২৮১ জনের মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের ৩৬ হাজার ৪২০ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৯ হাজার ৮৬১ জন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী বলেন, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুধু মেধা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নয়; ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রতিযোগিতামূলক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
জেলাভিত্তিক ফলাফলে শীর্ষে ঢাকা
জেলাভিত্তিক ফলাফলে ঢাকা জেলা সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৬৮২টি বৃত্তি নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে এক হাজার ৮৯৭ জন এবং সাধারণ ক্যাটাগরিতে দুই হাজার ৭৮৫ জন নির্বাচিত হয়েছে।
অন্যদিকে, বান্দরবান সবচেয়ে কম ১৮৮টি বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ১০৯ জন এবং সাধারণ ক্যাটাগরিতে রয়েছে ৭৯ শিক্ষার্থী।
ফেল বেশি দিনাজপুরে, অনুপস্থিতি সর্বোচ্চ নারায়ণগঞ্জে
ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, দিনাজপুরে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। জেলার ১৫ হাজার ৩৬৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮ হাজার ৮৯৮ জন ফেল করেছে, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৫৭ দশমিক ৯১ শতাংশ।
অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জে পরীক্ষায় অনুপস্থিতির হার সবচেয়ে বেশি। নিবন্ধিত ৯ হাজার ১৯৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪ হাজার ৮৫৮ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়নি, যা ৫২ দশমিক ৮০ শতাংশ।
উপস্থিতির হার সবচেয়ে বেশি ছিল ঠাকুরগাঁও জেলায়, যেখানে ৮১ দশমিক ৬১ শতাংশ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।
অনুপস্থিতির হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারি, মাদ্রাসা ও কারিগরি—সব ধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই উপস্থিতি কমেছে। কেন এত শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি, তা সরকার গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে এবং অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরীক্ষায় অংশগ্রহণ
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার ৭৮ হাজার ৮১০টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় ৬৫ হাজার ৬০৫টি এবং বেসরকারি বিদ্যালয় ১৩ হাজার ২০৫টি।
পরীক্ষায় অংশ নিতে নিবন্ধন করেছিল ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৪১ জন শিক্ষার্থী। তবে পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৮২ জন, যা মোট নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর ৬৫ দশমিক ১১ শতাংশ। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের তিন লাখ ৪৪ হাজার ১২৭ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৭৫ হাজার ৮৫৫ জন।
গত ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল দেশব্যাপী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
- বিষয় :
- প্রাথমিক বিদ্যালয়
- বৃত্তি
- পরীক্ষা