ঢাকায় ৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টি, সোমবার রাজধানীতে কমলেও বাড়তে পারে উত্তরাঞ্চলে
রাজধানীতে ভারী বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। আজ রোববার গ্রিন রোড থেকে তোলা ছবি: ফোকাস বাংলা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ | ১৯:৪৯ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬ | ২০:২৩
রাজধানীতে টানা ভারী বর্ষণে গত ৯ ঘণ্টায় ৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর আগের ২৪ ঘণ্টায়ও ঢাকায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। টানা এই অতি ভারী বর্ষণে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামীকাল সোমবার ঢাকায় বৃষ্টির তীব্রতা কমতে পারে। একই সময়ে উত্তরাঞ্চলসহ দেশের কয়েকটি বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
আজ রোববার বিকেলে আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, আজ সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ঢাকায় ৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে শনিবার সকাল ৬টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আজ রাতেও ঢাকায় বৃষ্টি হতে পারে। তবে তা হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আগামীকাল সোমবার রাজধানীতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কমলেও রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া ২৪ ঘণ্টার বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে তাকে ভারী বর্ষণ এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি হলে অতিভারী বর্ষণ বলা হয়।
আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর সম্মিলিত প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তার ভাষ্য, পশ্চিম দিকের লঘুচাপ ও পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত মৌসুমি বায়ুর মুখোমুখি অবস্থানের কারণে ঢাকার ওপর বৃষ্টিবাহী মেঘের ঘনত্ব বেড়ে যায়। ফলে রাজধানীতে অল্প সময়ের মধ্যে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে লঘুচাপটি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ায় ঢাকায় বৃষ্টির তীব্রতাও কমে আসবে।
এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আজ সকালে বান্দরবান ও চট্টগ্রামের সাঙ্গু, সুনামগঞ্জ ও সিলেটের কুশিয়ারা ও নেত্রকোনার সোমেশ্বরী নদীর পাঁচটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
কেন্দ্রের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরীসহ কয়েকটি নদীর পানি ধীরে ধীরে কমতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতিরও ধীরে ধীরে উন্নতি হতে পারে।
তবে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া ও হালদা নদীর পানি কিছু স্থানে আবারও বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর কিছু নিম্নাঞ্চলও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।