ঢাকা রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে জটিল পণ্য খালাস ব্যবস্থা ব্যবসা সহজীকরণে বড় বাধা

এনবিআর চেয়ারম্যানকে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতির চিঠি

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে জটিল পণ্য খালাস ব্যবস্থা ব্যবসা সহজীকরণে বড় বাধা
×

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস

চট্টগ্রাম ব্যুরো 

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ | ২০:৫৮

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে পণ্য খালাস ব্যবস্থাকে আরও জটিল ও সময়সাপেক্ষ করে তোলা হচ্ছে যা ব্যবসা সহজীকরণের পথে অনেক বড় বাধা। এই মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক। রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানান তিনি।

চিঠিতে বলা হয়েছে- সম্প্রতি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামের বাসভবনে ব্যবসায়ী নেতা, কাস্টমস ও বন্দর প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভায় ব্যবসা পরিচালন সহজীকরণ ও ব্যয় কমাতে চার দিনের মধ্যে পণ্য শুল্কায়ন সম্পন্ন ও বন্দর থেকে খালাসের নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি বন্দরের কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে এবং জাহাজ ও পণ্যজট হ্রাসের লক্ষ্যে বন্দরের অচল স্ক্যানার মেশিনগুলো সচল করাসহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন যা দ্রুত পণ্য খালাসের সাথে সাথে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের খরচ কমাতে সহায়ক হবে। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও এখনও ক্ষেত্র বিশেষে কাস্টমস কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা, স্বদিচ্ছার অভাব, প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা ও অকারণ দীর্ঘসূত্রিতার কারণে দ্রুত সময়ের মধ্যে শুল্কায়নের মাধ্যমে পণ্য খালাস প্রক্রিয়া কাঙ্ক্ষিত গতিশীলতা পাচ্ছে না। এর ফলে ব্যবসা পরিচালন ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক ধারা কমছে।

চিঠিতে চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, ‘দিনের পর দিন পণ্য শুল্কায়নে বিলম্ব করা, কনটেইনার আনস্টাফিংয়ের সময় অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেকিং বাধ্যতামূলক নয় এমন অনেক পণ্য বিএসটিআই টেস্টের জন্য পাঠানোসহ আরও অনেক অকারণ জটিলতা সৃষ্টি করার ফলে ক্ষেত্রবিশেষে ৭-৮ দিন বা আরও বেশি সময় লাগছে।  উদ্বেগের বিষয় হলো, একই পণ্যের বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক বারবার কায়িক পরীক্ষার ফলে যেকোনো দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মাঝেও পণ্য আনস্টাফিং করা হয় বলে পণ্য উল্লেখ্য পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিছু ক্ষেত্রে এ সকল পণ্য বাজারে চালানোর মতো অবস্থায় থাকে না।’ 

চিঠিতে বলা হয়, এতে আমদানিকারকরা প্রচুর আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। আমদানি পণ্যের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিদ্যমান বিধি অনুসরণ না করে লোডিং দিয়ে শুল্কায়ন করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে পণ্য খালাস ব্যবস্থাকে আরও জটিল ও সময়সাপেক্ষ করে তোলা হচ্ছে যা ব্যবসা সহজীকরণের পথে অনেক বড় বাধা।’ 

দেশের ব্যবসা পরিচালন সহজীকরণ ও ব্যয় হ্রাসের বাস্তব ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে প্রাইভেট সেক্টর তথা জাতীয় অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অভূতপূর্ব ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
 

আরও পড়ুন

×