ঢাকা রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

বনে ফিরল সেই বাঘিনি

বনে ফিরল সেই বাঘিনি
×

সুন্দরবনে অবমুক্ত

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ | ২১:১৮ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬ | ২১:১৯

শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে গুরুতর আহত হওয়ার ছয় মাস পর নিজের আবাস সুন্দরবনে ফিরেছে সেই বাঘিনি। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম আহত একটি বাঘকে দীর্ঘ চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে সুস্থ করে আবার সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হলো।

আজ রোববার ভোরে খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে বাঘিনীকে খাঁচায় ভরে নৌপথে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক বনাঞ্চল ও ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রসংলগ্ন এলাকায় নেওয়া হয়। দুপুরের দিকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী, বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গবেষক ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে বাঘিনীকে তার স্বাভাবিক আবাসে অবমুক্ত করা হয়।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সুন্দরবনের অসুস্থ একটি বাঘকে চিকিৎসা দিয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ করে আবার বনে ফিরিয়ে দেওয়া হলো। এটি দেশের বন্যপ্রাণী চিকিৎসা ও সংরক্ষণে নতুন উদাহরণ।’

বন বিভাগের তথ্যমতে, গত ৩ জানুয়ারি সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের বৈদ্যমারী ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির আওতাধীন শরকির খালসংলগ্ন বনাঞ্চলে শিকারিদের পেতে রাখা হরিণ ধরার ছিটকা ফাঁদে আটকা পড়ে বয়স্ক বাঘিনী। ধারণা করা হয়, উদ্ধারের চার থেকে পাঁচ দিন আগেই সে ফাঁদে আটকা পড়ে। খবর পেয়ে বন বিভাগের বিশেষজ্ঞ দল ৪ জানুয়ারি ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার করে। পরে ফাঁদ কেটে বিশেষ লোহার খাঁচায় করে খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে টানা ছয় মাস চিকিৎসা, নিয়মিত ড্রেসিং ও নিবিড় পরিচর্যা করা হয়।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনা কার্যালয়ের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল জানান, বাঘিনীটির বয়স ১০ থেকে ১১ বছর। সামনের বাঁ পায়ের প্রায় তিন ইঞ্চি জায়গাজুড়ে চামড়া, মাংসপেশি ও শিরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ফাঁদের রশিতে বারবার টানাটানির কারণে ক্ষতস্থানে পচন ধরেছিল। অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ, নিয়মিত ড্রেসিং এবং নিবিড় পরিচর্যার ফলে মার্চ মাসের মধ্যে ক্ষত শুকিয়ে যায়। বর্তমানে ক্ষতস্থান সম্পূর্ণ ভরাট হয়েছে, সেখানে নতুন করে লোমও গজিয়েছে। চিকিৎসা শেষে বাঘিনীটি তার হারানো ক্ষিপ্রতা, গতি ও স্বাভাবিক আচরণ ফিরে পেয়েছে। সার্বিক শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাকে আবার সুন্দরবনে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বাঘিনীটি বনে ফিরে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা, শিকার এবং নিজস্ব আবাসে খাপ খাইয়ে নিতে পারছে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করেছে বন বিভাগ। 
বন সংরক্ষক সানাউল্লাহ পাটোয়ারী জানান, বাঘিনীর বিচরণ এলাকায় ২০টি ইনফ্রারেড ট্র্যাপ ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে ভবিষ্যতে তার চলাফেরা ও আচরণ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে স্থাপিত ক্যামেরাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রথম ১০ সেকেন্ড ভিডিও এবং পরবর্তী ১০ সেকেন্ড স্থিরচিত্র ধারণ করবে। প্রথমে স্যাটেলাইট কলার ব্যবহারের পরিকল্পনা থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্র সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তাই বিকল্প হিসেবে এই ক্যামেরাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×