ঢাকা রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

জয়পুরহাট সীমান্ত

রাতে শূন্যরেখায় থাকা তিনজন সকালে উধাও

এলাকাবাসী বলছে- তাদের দেশে ঢোকানো হয়েছে, বিজিবি বলছে ভিন্ন কথা

রাতে শূন্যরেখায় থাকা তিনজন সকালে উধাও
×

ছবি: সমকাল

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ | ২১:৫১

জয়পুরহাট সীমান্তের শূন্যরেখায় শনিবার রাতে অবস্থান নেওয়া বৃদ্ধ দম্পতিসহ তিনজনকে রোববার সকালে আর দেখা যায়নি। তাদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে এলাকাবাসী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে। 

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শনিবার রাতে নড়াইল থেকে স্বজনরা সীমান্তে আসার পর বিজিবি ওই তিনজনকে নিয়ে যায়। তবে বিজিবি-১৪ পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের দাবি, শনিবার রাতেই ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) শূন্যরেখা থেকে তাদের সরিয়ে নেয়।

সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, শনিবার ভোরে সীমান্তের ফ্লাডলাইট নিভিয়ে ৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। এদের মধ্যে দুজন তখনই পালিয়ে যায়। তবে বাকি তিনজনকে সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশের অভ্যন্তর থেকে আটক করে বিজিবির হাতে তুলে দেয় স্থানীয়রা। পরে তাদের শূন্যরেখায় পাঠিয়ে কড়া পাহারায় রাখে বিজিবি।

ওই তিনজনের কাছে থাকা বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী, বৃদ্ধ দম্পতি শেখ হাফিজুর রহমান ও নাছিমা বেগম। তাদের বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামে। সঙ্গে থাকা অন্য নারী শিউলি বেগম তাদের আত্মীয়। কয়েক মাস আগে দালালের মাধ্যমে চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার পর ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতায় তারা দেশটির কারাগারে ছিলেন।

শনিবার ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর নড়াইল থেকে তাদের স্বজনরা সীমান্তে আসেন। শেখ হাফিজুর রহমান ও নাছিমা বেগমের ছেলে সোহাগ শেখ নড়াইল পৌর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। শনিবার রাতে একটি মাইক্রোবাসে করে তিনিও সেখানে পৌঁছান।

স্থানীয়দের ধারণা, রাতেই স্বজনদের উপস্থিতিতে ওই তিনজনকে দেশের ভেতরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে বৃদ্ধ দম্পতির ছেলে সোহাগ শেখ বলেন, আমার বাবা-মাকে আটকের খবর দেখে রাতেই সীমান্তে ছুটে যাই। কিন্তু তাদেরকে আমাদের সঙ্গে নিয়ে আসতে দেওয়া হয়নি। তাদের দেশে ফেরাতে আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছি।

বিজিবি-১৪ পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের অধীন ভুটিয়াপাড়া বিওপি কমান্ডার শামসুজ্জামান বলেন, শূন্যরেখায় অবস্থান করা ওই তিনজনকে বিএসএফ সরিয়ে নিয়ে গেছে।

আরও পড়ুন

×