ঢাকা রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

থুইসাপাড়া থেকে ৪৮ ঘণ্টার অভিযানে ৪ পর্যটককে উদ্ধার

১১ জেলায় বিজিবির উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম 

থুইসাপাড়া থেকে ৪৮ ঘণ্টার অভিযানে ৪ পর্যটককে উদ্ধার
×

বিজিবি সদস্যরা থুইসাপাড়া থেকে পর্যটকদের নিয়ে বিকল্প পাহাড়ি পথে পায়ে হেঁটে অংসাউপাড়া পৌঁছান। ছবি-সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ | ২২:৩৮

বান্দরবানের অমিয়াখুম ভ্রমণে গিয়ে থুইসাপাড়ায় আটকে পড়েছিলেন ঢাকার চার শিক্ষার্থী। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নদীপথ বন্ধ হওয়ায় গত ৭ জুলাই থেকে তারা সেখানে অবরুদ্ধ ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিজিবি টানা ৪৮ ঘণ্টার এক অভিযান চালিয়ে রোববার তাদের নিরাপদে উদ্ধার করে। এর পাশাপাশি দেশের বন্যাকবলিত ১১টি জেলায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বিজিবি ও সেনাবাহিনী। 

উদ্ধার হওয়া চার পর্যটক হলেন- ঢাকার সূত্রাপুরের মারুফ উদ্দিন, আবু হুরায়রা জাদিম, তামিম রায়হান সৌরভ এবং শ্যামপুরের মাহাদি আল মাহবুব। তারা চারজনই শিক্ষার্থী। 

রোববার বিজিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ৪ জুলাই চার পর্যটক বান্দরবানের থানচিতে বেড়াতে যান। আবহাওয়া খারাপ হলে তারা থুইসাপাড়ায় আটকে পড়েন। খবর পেয়ে বিজিবির জিন্নাপাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা প্রথমে তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেন। এরপর গত শনিবার তাদের উদ্ধারে অভিযান শুরু হয়। 

বিজিবি সদস্যরা থুইসাপাড়া থেকে পর্যটকদের নিয়ে বিকল্প পাহাড়ি পথে পায়ে হেঁটে অংসাউপাড়া পৌঁছান। রোববার আরও চার ঘণ্টা দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে তাদের সীমান্ত সড়কে আনা হয়। সেখান থেকে বিজিবির গাড়িতে করে তাদের নিরাপদে থানচিতে ফিরিয়ে আনেন। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে নিরাপদে উদ্ধার করায় পর্যটকরা বিজিবির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। 

১১ জেলায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম

অপর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি জানিয়েছে, বান্দরবান, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুরে দুর্যোগ মোকাবিলায় সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন। বর্তমানে ৯০টি পয়েন্টে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত শুধু বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১১৬ জন পর্যটকসহ ১২২টি পরিবারের ছয় শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করেছে বিজিবি। পাশাপাশি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, ৪৮ জনকে জরুরি চিকিৎসাসেবা, বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়ক থেকে গাছ ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণ এবং নাইক্ষ্যংছড়িতে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু রক্ষায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। 

সেনাবাহিনী জানিয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা দুর্গত এলাকায় পৌঁছে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করছেন। দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

×