টানা বৃষ্টিতে পটুয়াখালীতে ২ হাজার ৬১৫ হেক্টর ফসল পানির নিচে
ছবি: সমকাল
পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ | ২২:৪৩
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে পটুয়াখালীতে রোপা আমনের বীজতলা, আউশ ধান ও গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাবে, জেলায় ২ হাজার ৬১৫ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ৯০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রোববার ভোর থেকে জেলায় ভারী বৃষ্টি হয়। স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পটুয়াখালীতে ১০০ মিলিমিটার এবং গত ৪৮ ঘণ্টায় ২৩৮ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী বলেন, আরও দুই দিন এমন আবহাওয়া থাকতে পারে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে ৯৭০ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা, ৫২০ হেক্টর আউশ ধান, ৪৫০ হেক্টর শাকসবজি, ১২০ হেক্টর পেঁপে, ৮০ হেক্টর কলা, ২৫ হেক্টর পান, ৪০ হেক্টর রকমেলন (সাম্মাম), ৫ হেক্টর পাট, শূন্য দশমিক ৫ হেক্টর মরিচ এবং ৪ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন তরমুজ।
রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ এলাকার কৃষক মোহাম্মদ আলী হোসেন বলেন, টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে এলাকার সাতটি গ্রামের ফসলের মাঠ তলিয়ে গেছে। এতে রোপা আমনের বীজতলা, আউশ ধান ও গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির ক্ষতি হয়েছে। এতে কৃষকেরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
একই উপজেলার চালিতাবুনিয়া এলাকার কৃষক মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে নদী আর ফসলের মাঠ একাকার হয়ে গেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বারবার ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকেরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. আমানুল ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টিতে বিশেষ করে রোপা আমনের বীজতলা, আউশ ধান ও শাকসবজির ক্ষতি হয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ৯০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া যাবে।