ঢাকা রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

নাটোরে নবজাতকের মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ

নাটোরে নবজাতকের মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ
×

ছবি: সমকাল

নাটোর সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ | ২১:০০

নাটোর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে আজ রোববার এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নবজাতকের স্বজনরা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ করেছেন। ঘটনার তদন্তে গিয়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা লাঞ্ছনার শিকার হন। 

মারা যাওয়া নবজাতকের স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, সদর উপজেলার আগদীঘা গ্রামের বাবু আলীর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রুমি বেগমের প্রসব ব্যথা উঠলে আজ ভোরে তাকে নাটোর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানে তিনি একটি ছেলে বাচ্চার জন্ম দেন। পরে বাচ্চাটির অবস্থার অবনতি হলে তাকে নাটোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাচ্চাটিকে মৃত ঘোষণা করে। 

স্বজনদের অভিযোগ, স্বাভাবিক প্রসবের পর শিশুটির অক্সিজেন স্বল্পতা দেখা দেয়। কিন্তু তাকে সময়মতো অক্সিজেন দেওয়া হয়নি। 

মৃত নবজাতকের বাবা বাবু আলী বলেন, ‘এটা আমার প্রথম সন্তান। আমার সন্তানকে খুন করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’

চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে কেন্দ্রটির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা আবাসিক চিকিৎসক মিজানুর রহমান বলেন, ‘পরিবার পরিকল্পনার দপ্তরের একটি সভা থাকায় আমি ঘটনার সময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ছিলাম। পরে হাসপাতালে এসে ঘটনাটি দেখে শিশুটিকে নাটোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।’

মিজানুর রহমান বলেন, স্বাভাবিক প্রসবে শিশুর মাথা আগে আসে। তবে এই শিশুটির পা আগে এসেছে। ব্রিচ প্রেজেনটেশনের (মাথা ওপরে এবং পা বা নিতম্ব নিচে) কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। এ ধরনের প্রসবের ক্ষেত্র শিশুর অক্সিজেন স্বল্পতা দেখা দিতে পারে। ওই নবজাতকের ক্ষেত্রেও এমনটা ঘটেছে। তাকে অক্সিজেনও দেওয়া হয়েছে।

নাটোর জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আলতাব হোসেন জানান, বেলা ১১ টার দিকে নবজাতকটিকে হাসপাতালের জরুরি ওয়ার্ডে আনা হয়। পরে চিকিৎসক পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সুমনা সরকার বলেন, শিশুর যদি ব্রিচ প্রেজেনটেশন থাকে (পা আগে থাকে), তাহলে প্রসবে জটিলতার সৃষ্টি হয়। শিশুর অক্সিজেন কমে যায়, হাইপো হয়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে অনেক শিশুই টিকে না।

নাটোর পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত সহকারী উপ পরিচালক সাহাবুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনাটি শুনে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে গেলে নিহত নবজাতকের স্বজনরা আমার ওপর চড়াও হন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে আমি ঘটনাস্থল ত্যাগ করি।’ 

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার নেওয়া হবে। 

নাটোর পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক আনোয়ারুল আজিম বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে হামলার স্বীকার হয়েছেন একজন কর্মকর্তা। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন

×