বন্যাকবলিত ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন
বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং করছে বিজিবি। প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। ছবি: ফোকাস বাংলা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ | ২১:৪৩ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬ | ২১:৪৫
চট্টগ্রাম, বান্দরবান, কক্সবাজার, সিলেটসহ বন্যাকবলিত ১১ জেলায় বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এসব জেলার ৯০টি পয়েন্টে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং করছে বিজিবি। প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে।
আজ রোববার বিজিবি সদরদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও ভূমিধসে সৃষ্ট দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় বান্দরবান, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এসব জেলাগুলোতে মোট ৯০টি পয়েন্টে বিজিবির সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রয়োজনঅনুযায়ী তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত শুধু বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১১৬ জন পর্যটকসহ ১২২টি পরিবারের ৬ শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করেছে বিজিবি। পাশাপাশি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, ৪৮ জনকে জরুরি চিকিৎসাসেবা, বান্দরবান–রোয়াংছড়ি সড়ক থেকে গাছ ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণ এবং নাইক্ষ্যংছড়িতে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু রক্ষায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাও নিয়েছে বিজিবি।
বান্দরবানে আটক পড়া চার পর্যটককে উদ্ধার
অপর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি জানায়, গত ৪ জুলাই বান্দরবানের থানচি উপজেলার অমিয়াখুম ভ্রমণে যান ঢাকার চার পর্যটক। ৭ জুলাই থেকে টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও বৈরী আবহাওয়ায় নদীপথ বন্ধ হয়ে গেলে তারা থুইসাপাড়ায় আটকা পড়েন। খবর পেয়ে বিজিবির বলিপাড়া ব্যাটালিয়নের (৩৮ বিজিবি) জিন্নাপাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা ওই এলাকায় পৌঁছে পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে থানচিতে ফিরে আসা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গত ১১ জুলাই তাদের উদ্ধার করতে অভিযান শুরু করে বিজিবি। বিজিবি সদস্যরা পর্যটকদের নিয়ে বিকল্প পাহাড়ি পথে পায়ে হেঁটে থুইসাপাড়া থেকে অংসাউপাড়া পৌঁছান। পরদিন আরও প্রায় চার ঘণ্টা দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে পর্যটকদের সীমান্ত সড়কে এনে বিজিবির গাড়িতে করে নিরাপদে থানচিতে ফিরিয়ে আনেন। উদ্ধার হওয়া চার পর্যটক হলেন– ঢাকার সূত্রাপুরের মারুফ উদ্দিন, আবু হুরায়রা জাদিম, তামিম রায়হান সৌরভ ও শ্যামপুরের মাহাদি আল মাহবুব। তারা চারজনই শিক্ষার্থী।
উদ্ধার হওয়া পর্যটকরা জানান, আটকা পড়ার পর থেকেই বিজিবি তাদের নিরাপত্তা, খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করেছে।
- বিষয় :
- বিজিবি