ঢাকা রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

সংসদে শ্রদ্ধা-স্মৃতিচারণ

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন অনন্য এক প্রতিষ্ঠান 

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন অনন্য এক প্রতিষ্ঠান 
×

সংসদে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের স্মৃতিচারণ করেন

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ | ১৯:৪৮

সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে একজন ‘প্রজ্ঞাবান সংসদীয় ব্যক্তিত্ব’, ‘সফল আইনজীবী’ এবং ‘আপাদমস্তক ভদ্রলোক’ হিসেবে অভিহিত করে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে জাতীয় সংসদ। শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় বক্তারা বলেন, ‘তিনি কেবল একজন রাজনীতিবিদই ছিলেন না, নিজেই ছিলেন অনন্য একটি প্রতিষ্ঠান।’

রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের ২৩তম দিনে সাবেক স্পিকারের মৃত্যুতে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের (বীর বিক্রম) সভাপতিত্বে বিকেল ৩টায় অধিবেশন শুরু হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন একজন ‘সেলফ-মেড ম্যান’। নিজের মেধা দিয়ে তিনি বড় হয়েছেন। তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন যিনি কোনোদিন নির্বাচনে হারেননি।’ 

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর ছিল অবিচল আস্থা। শেষ মুহূর্তেও তিনি দলের প্রতি অনুগত ছিলেন। সবসময় বলতেন, ‘নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্রে পৌঁছানো যায় না’।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা তাঁকে সবসময় ‘সুটেড-বুটেড’ আপাদমস্তক একজন জেন্টলম্যান হিসেবে দেখেছি। তিনি আমাদের পিতৃতুল্য ছিলেন, কিন্তু কখনও ‘আপনি’ ছাড়া কথা বলতেন না। সাবেক স্পিকারদের যেভাবে সংসদ ভবনে দাফন করা হয়, প্রথা অনুযায়ী ওনাকেও সেখানেই দাফন করা হবে। তিনি আমাদের মাঝে না থাকলেও এই সংসদেই থাকবেন।

বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে জমির উদ্দিন সরকারের মহানুভবতার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী আমলে যখন আমরা আইনের যাঁতাকলে পিষ্ট ছিলাম, তিনি আমাদের মজলুম নেতাদের পক্ষে আদালতে বারবার দাঁড়িয়েছেন। আমরা কৃতজ্ঞতাস্বরূপ ফি দিতে চাইলেও তিনি এক টাকাও নেননি। তিনি বলতেন, এটি তাঁর নৈতিক দায়িত্ব।’

প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ঢাকা হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টে দূর থেকে হ্যাট, কোট আর ছাতা হাতে কাউকে দেখা গেলেই বোঝা যেত তিনি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। তিনি তাঁর মক্কেলদের বিষয়ে অত্যন্ত সিরিয়াস ছিলেন।’

আলোচনা শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জাতি আজ এক মহান রাজনীতিক ও সাদা মনের মানুষকে হারিয়েছে। তিনি এই চেয়ারে বসে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সংসদ পরিচালনা করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে কখনও কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি।

শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষে মরহুমের সম্মানে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামানের পরিচালনায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার রোববার ভোর ৪টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আরও পড়ুন

×