রাঙামাটিতে পিআইও’র কার্যালয়ে ‘হট্টগোল’, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জিডি
সংগৃহীত ছবি
রাঙামাটি অফিস
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ | ১৮:৩৬ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬ | ১৮:৫৮
পিআইও কার্যালয়ে গিয়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ও অনুসারীদের নিয়ে হট্টগোলের অভিযোগে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ওমর আলীর বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)। গতকাল শনিবার রাতে বাঘাইছড়ি থানায় জিডির আবেদন করেন বাঘাইছড়ির পিআইও সুপ্তশ্রী সাহা।
জিডিতে সুপ্তশ্রী সাহা উল্লেখ করেন, গত ১২ ডিসেম্বর বাঘাইছড়ি উপজেলায় যোগদানের পর থেকে বাঘাইছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওমর আলী উপজেলার সরকারি প্রকল্পের বিভিন্ন কাজে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করতেন। সর্বশেষ গত ২২ জুন দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে ওমর আলী উপজেলা প্রকল্পের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথির তথ্য চান। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় ওমর আলী তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ওমর আলী অন্যের লাইসেন্সের সিকিউরিটি মানির (জামানতের) টাকা তাঁর কর্মীর হাতে তুলে দিতে বলেন। উক্ত টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় ওমর আলী তাঁর সাথে দুর্ব্যবহার করেন। তারই ধারাবাহিকতায় তাঁর দলের কিছু অনুসারী গত ১০ জুলাই (শুক্রবার) কার্যালয়ে গিয়ে বন্যার্তদের বিতরণের ত্রাণ তাদেরকে দিয়ে দিতে বলে। এতে রাজি না হওয়ায় তারা উচ্ছৃঙ্খল আচরণসহ হট্টগোল করে চলে যায়।
জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, একই দিন সন্ধ্যায় মুসলিম ব্লক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ত্রাণ বিতরণ করতে গেলে ‘হুমায়ুন রশিদ’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে গিয়ে পিআইওকে নিয়ে বিভিন্ন আজেবাজে কথা বলা হয় এবং তাঁর নাম উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দিয়ে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে থানায় এই জিডি করেছেন তিনি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাঘাইছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ওমর আলী বলেন, পিআইওর করা অভিযোগ সত্য নয়। রাজনৈতিকভাবে আমার কিছু প্রতিপক্ষ রয়েছে, তারা ষড়যন্ত্র করছে। আমি একজনের বিলের বিষয়ে কথা বলার জন্য পিআইও কক্ষে গিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো ধরনের খারাপ আচরণ তাঁর সাথে করিনি।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে থানায় জিডির বিষয়টি তিনি অবগত নন জানিয়ে বলেন, তদন্তে যদি তিনি অপরাধী প্রমাণিত হন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে কোনো আপত্তি নেই।
বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দীন মজুমদার জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উপজেলা বিএনপির সভাপতির নাম উল্লেখ করে থানায় একটি জিডির আবেদন করা হয়েছে। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।