ক্ষুধার জ্বালায় জ্বলছে চা শ্রমিকের সংসার
বাগানে স্থবিরতা। বাড়ি ফাঁকা করে কাজের সন্ধানে গিয়েছেন চা শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা সমকাল
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৪ | ২৩:০৪
কাজ বন্ধ বাগানগুলোতে। আয়-রোজগার নেই এক কড়ি। মজুরি আর রেশনসহ যাবতীয় বকেয়া পরিশোধে পদক্ষেপ নিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এমন পরিস্থিতিতে কমলগঞ্জসহ ন্যাশনাল টি কোম্পানি লিমিটেডের (এনটিসিএল) অধীন চা বাগানের শ্রমিক পরিবারগুলোতে চলছে নীরব দুর্ভিক্ষ।
১১ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মজুরি পাচ্ছেন না এনটিসির ১২টি চা বাগানের শ্রমিকরা। বকেয়া পরিশোধের দাবিতে চলমান কর্মবিরতির কারণে বর্তমানেও আয় নেই তাদের। শ্রমিক পরিবারে ক্ষুধার নরকাগ্নি জ্বলছে দাউ দাউ করে। এরই মধ্যে প্রতিটি দোকানে বাকির খাতা ভারী হয়ে উঠেছে তাদের। এখন আর বাকিও দিচ্ছেন না দোকানিরা।
চলমান সংকটের মাঝে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন কমলগঞ্জের আটটি চা বাগানের শ্রমিক ও তাদের পরিবারের প্রায় ২০ হাজার সদস্য। ক্ষুধার যন্ত্রণা সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে তাদের।
জানা যায়, কমলগঞ্জে ফাঁড়ি বাগানসহ এনটিসির মালিকানাধীন আটটি চা বাগান রয়েছে। পাত্রখোলা, চাম্পারায়, কুরমা, কুরঞ্জি, বাঘাছড়া, মাধবপুর, পদ্মছড়া ও মদন মোহনপুর চা বাগান। এই আটটি বাগানে ৮ হাজারের মতো শ্রমিক কাজ করেন। প্রতিটি সংসারে চার থেকে পাঁচজন সদস্য। বাগানে কাজ করা এই চা শ্রমিকদের উপার্জনই তাদের সংসারের জীবিকা নির্ধারণ করে থাকে।
শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বারবার এ নিয়ে কথা বলা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান মেলেনি।
বাগান কর্তৃপক্ষের দাবি, মজুরি দিতে না পারলেও পরিবার অনুযায়ী নিয়মিত রেশন হিসেবে আটা দেওয়া হচ্ছে চা শ্রমিক পরিবারগুলোতে। তাছাড়া দু’সপ্তাহ আগে সরকারিভাবে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।
কুরমা চা বাগানের শ্রমিক সনজিত রবিদাস, নিয়তি বাউরী, গীতা রবিদাস ও দীনেশ বাউরী জানান, হাতে কোনো টাকা নেই। ঘরে খাবারও নেই তাদের। পরিবারের শিশুরা খাওয়ার কষ্ট করছে। বাগানের দোকানগুলো থেকে বাকি নিতে নিতে এখন আর বাকিও দিতে চাচ্ছেন না দোকানিরা।
এনটিসির চা শ্রমিকদের দুর্বিষহ জীবনযাপনের কথা তুলে ধরে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সম্পাদক ও বর্তমান উপদেষ্টা রামভজন কৈরী জানান, বিভিন্ন সময়ে মালিকপক্ষের কাছে দাবি জানিয়ে এলেও শ্রমিকদের মজুরি দেওয়ার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। শ্রমিক পরিবারগুলো চরম সংকটের মাঝে দিন কাটাচ্ছে। তবে বেঁচে থাকার তাগিদে চা বাগানের প্রায় ২০ শতাংশ শ্রমিক দিনমজুর হিসেবে কাজ করছেন।
ন্যাশনাল টি কোম্পানি লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান জানান, চা শ্রমিকদের রেশন হিসেবে আটা দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত বকেয়া পরিশোধ করে বাগানের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল করতে হবে। আশা করা হচ্ছে ২ ডিসেম্বরের মধ্যে এই সমস্যার সমাধা হতে পারে।
- বিষয় :
- সংসার
