খুন করে বাবা, লাশ লুকায় মামা
সানু মিয়া ও মাজু মিয়া
নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২০ | ০১:৫৪
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে লাইজু আক্তার (১৬) নামে এক কিশোরীকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ওই কিশোরীর বাবা সানু মিয়া ও কিশোরীর মামা মাজু মিয়া।
সোমবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আহমেদের আমলি আদালতে দু’জন এ জবানবন্দি দেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত মো. কবির হোসেন।
২৩ জুন নিখোঁজ হয় লাইজু। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর গত ২৭ জুন উপজেলার ধরমন্ডল গ্রামের লম্বাহাটির একটি খাল থেকে তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
হত্যার ঘটনায় লাইজুর মা সাহেদা বেগম অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে। এক পর্যায়ে লাইজুর বাবা সানু মিয়া ও মামা মাজু মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করে। সোমবার তারা লাইজুকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।
নাসিরনগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত মো. কবির হোসেন সমকালকে বলেন, লাইজুর বাবা সানু মিয়া ও লাইজুর মামা মাজু মিয়া আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদে লাইজুর মামা মাজু মিয়া জানান, লাইজুর স্বভাব চরিত্র ভালো ছিল না। বিভিন্ন ছেলেদের সাথে শারীরিক মেলামেশা করতো। গত ২২ জুন মাজু মিয়ার বাড়ির পাশে একটি পাটক্ষেতে এক যুবকের সাথে মেলামেশা করতে দেখেন তিনি। তখন বিষয়টি লাইজুর বাবা সানুকে জানান মাজু। পরে ২৩ জুন সানু ও মাজু পরিকল্পনা করেন লাইজুকে হত্যা করার। ২৩ জুন রাতে মাজুর বাড়ির পাশে একটি খালের কাছে নিয়ে গিয়ে লাইজুর গলায় থাকা ওড়না পেচিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন তারা দু’জন। এরপর লাশ পাশের একটি খালের কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন জানান, স্থানীয়দের সাথে কথা বলে এবং লাশের অবস্থার আলোকে প্রাথমিকভাবে আমাদের সন্দেহ হয় এটি হত্যাকাণ্ড। পরে নিহতের পরিবারের দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তারা হত্যার সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।
- বিষয় :
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া
- হত্যা