যৌতুক না দেওয়ায় শেষ মুহূর্তে ভেঙে গেল বিয়ে
রংপুর অফিস
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৩৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিয়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও শেষ মুহূর্তে বর না আসায় ভেঙে গেছে একটি বিয়ে। কনের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের আগে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক এবং ঘর সাজানোর জন্য আরও তিন লাখ টাকা দাবি করে বরপক্ষ। দাবি পূরণ না হওয়ায় বর বিয়েতে আসেননি। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রংপুরের জেলা প্রশাসক ও তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কনের বাবা।
কনের বাড়ি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের চক পলাশবাড়ী গ্রামে। কনের বাবা শাহ আলম জানান, তাঁর মেয়ের সঙ্গে তারাগঞ্জ উপজেলার হাড়িয়ালকুঠি ইউনিয়নের সর্দারপাড়া গ্রামের আবদুল হালিম শাহর ছেলে মিলন মিয়া ওরফে নাল্টুর বিয়ে ঠিক হয়েছিল। গত রোববার রাতে বিয়ের দিনক্ষণ নির্ধারিত ছিল।
তিনি বলেন, বরযাত্রী আপ্যায়নের জন্য বাজার-সদাই, রান্নাবান্না ও অন্য সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বরপক্ষ জানায়, যৌতুক হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা এবং ঘর সাজানোর জন্য আরও তিন লাখ টাকা না দিলে বিয়ে হবে না। অনেক অনুরোধ করার পরও বরপক্ষ বিয়েতে আসেনি।
শাহ আলম বলেন, ‘আমার মেয়ের গায়ে হলুদ হয়েছে। এখন সমাজে মুখ দেখাতে পারছি না।’
কনের ভগ্নিপতি আবদুল হালিম বলেন, ‘বরযাত্রী আনার জন্য গাড়ির ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।
কিন্তু যৌতুকের দাবি তুলে বরপক্ষ শেষ মুহূর্তে বিয়ে থেকে সরে দাঁড়ানোয় কনের পরিবার অবর্ণনীয় বিপাকে পড়েছে।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বরের বাবা আবদুল হালিম শাহ। তিনি বলেন, ‘বিয়ে হয়নি, এটি সত্য। কিন্তু আমি কোনো যৌতুক দাবি করিনি। অভিযোগটি ভিত্তিহীন। তবে মেয়ের পরিবার ক্ষতিপূরণ চাইলে তা দিতে রাজি আছি।’
তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোনাব্বের হোসেন বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত ও সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সামাজিকভাবে সমাধান সম্ভব না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী বিয়ের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যৌতুক দাবি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর এবং সর্বনিম্ন এক বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
- বিষয় :
- যৌতুক