বগুড়ায় কমেছে করোনা সংক্রমণ, বেড়েছে সুস্থতার হার
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২০ | ০৮:১৯
বগুড়ায় মে মাসের শেষদিকে হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ বর্তমানে কিছুটা কমতে শুরু করেছে। এ রোগে সুস্থতার হারও আগের তুলনায় বেড়েছে। এমনকি ২৮ জুনের পর থেকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে কিংবা উপসর্গ নিয়ে এ জেলার আর কোনো বাসিন্দার মৃত্যুর খবরও পাওয়া যায়নি।
জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, জেলায় আগের তুলনায় সার্বিক করোনা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা সম্পর্কে জেলাবাসীর মধ্যে কিছুটা হলেও সচেতনতা বেড়েছে। তাছাড়া আক্রান্ত হলে কিভাবে চিকিৎসা নিতে হবে সে সম্পর্কে সবার মধ্যে আগাম একটা প্রস্তুতির চর্চা গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি রোগীর অবস্থা একটু খারাপের দিকে গেলে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণের কারণে আগের তুলনায় সুস্থতার হারও বেড়েছে।
বগুড়ায় গত ১ এপ্রিল ঢাকাফেরত রংপুরের এক বাসিন্দার শরীরে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। তার দুই সপ্তাহ পর ১৬ এপ্রিল ঢাকাফেরত বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার এক পুলিশ কনস্টেবল এ ভাইরাসের দ্বিতীয় শিকার হন। এরপর থেকে করোনায় আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। শুরুতে জেলার একটি পিসিআর ল্যাবে প্রতিদিন মাত্র ৯৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হলেও পরবর্তীতে দু’টি ল্যাবে প্রতিদিন ৩৭৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এছাড়া এক সপ্তাহ পর পর ৩০০ থেকে ৫০০ নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায়ও পাঠানো হচ্ছে।
জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২৬ মে পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৯০ জন। ওই দিনের নমুনা পরীক্ষা করা ব্যক্তিদের মধ্যে ১২ দশমিক ২২ শতাংশ পজিটিভ ছিলেন। কিন্ত ২৭ মে একদিনেই সর্বাধিক ৫০ জন আক্রান্ত হন। সেদিন মোট পরীক্ষা করা নমুনার ৩০ দশমিক ৪৮ শতাংশের পজিটিভ আসে। তারপর থেকে করোনায় আক্রান্তের হার দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকে।
এরপর ১০ জুন করোনা আক্রান্তের সংখ্য হাজার ছাড়িয়ে যায়। আক্রান্তের হার প্রায় ৩২ শতাংশে গিয়ে ঠেকে। তার চার দিনের মাথায় ১৪ জুন পরীক্ষা করা ২৫৬টি নমুনার মধ্যে ১২৮টি অর্থাৎ ৫০ শতাংশের পজিটিভ আসে। পরদিন ১৫ জুন তা আরও বেড়ে প্রায় ৬০ শতাংশে গিয়ে ঠেকে এবং করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়ে যায়। সেদিন তিনজনের মৃত্যুসহ তখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট ১৭ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য বিভাগ। ২০ জুনের পর থেকে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। ২১ জুন একদিনে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। সর্বশেষ ৩০ জুন পর্যন্ত মোট ৫২ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
মে মাসের শেষ থেকে বগুড়ায় দ্রুতগতিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে তখন স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, মূলত দু’টি কারণে করোনার সংক্রমণ বেড়েছে। প্রথম কারণ হলো, ১০ মে মার্কেট ও বিপনীবিতানগুলো খুলে দেওয়া আর দ্বিতীয় কারণটি ছিল, ঈদের আগ মুহূর্তে মানুষকে ঢাকা ছাড়ার সুযোগ দেওয়া।
তবে আশার কথা, ২৮ জুন থেকে জেলায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা হ্রাস পেতে শুরু করে। যে আক্রান্তের হার ৬০ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছিল তা ২৮ জুন ২১ দশমিক ২৩ শতাংশে নেমে আসে। পরদিন ২৯ জুন তা ১৯ দশমিক ৬২ শতাংশে এবং পরদিন ৩০ জুন আক্রান্তের হার কিছুটা বেড়ে ২৩ দশমিক ৯২ শতাংশে ঠেকেছে। তবে জুনের শেষ সপ্তাহে এসে আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থতার হারও বাড়তে শুরু করেছে। ২৪ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সাতদিনে ২৮৮ জন সুস্থ হয়েছেন। ওই সাতদিনের মধ্যে গত ৩০ জুন সর্বোচ্চ ৯৫ জনের সুস্থ হওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন জেলায় সার্বিক করোনা পরিস্থিতির উন্নতির কথা স্বীকার করে জানান, অনেকগুলো কারণেই এটা হয়েছে। তিনি বলেন, আগে কেউ একজন করোনায় আক্রান্ত হলে তার প্রতি ঘৃণা ছড়ানো কিংবা তাকে ও তার পরিবারকে অসহযোগিতা করার যে প্রবণতা দেখা যেত সেটি এখন কমে এসেছে। এখন আক্রান্ত ব্যক্তি ও তার পরিবারের প্রতি আশপাশের লোকজন বেশ সহানুভূতিশীল হয়ে উঠেছেন। যা আক্রান্ত ব্যক্তিকে সাহসী করে তুলেছে। পাশাপাশি করোনায় আক্রান্ত হলে চিকিৎসা পদ্ধতি কি হবে সেগুলো সম্পর্কে সবার মধ্যে একটা ধারণা চলে এসেছে এবং অবস্থা একটু খারাপের দিকে গেলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে-এমন চিন্তাও উন্মেষ ঘটেছে।’
ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিনের মতে, বগুড়াবাসী যদি আরও ধৈর্য্য ধরে সতেচতনতা বাড়াতে পারে তাহলে আগামীতে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।
- বিষয় :
- বগুড়া
- করোনার প্রাদুর্ভাব
- সংক্রমণ