ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

নাম তার ‘পালোয়ান’, ওজন ৩০ মণ

নাম তার ‘পালোয়ান’, ওজন ৩০ মণ
×

‘পালোয়োনের’ সঙ্গে খামারি মাসুদ -সমকাল

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২০ | ০৮:৪৫

পুরো শরীর কালো রঙের। পেটের দিকে, লেজের মাথা ও পেছনের দুই পা সাদা রঙের। নাম তার ‘পালোয়ান’। ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছে ৩০ মণ ওজনের এই গরু। 

পাবনার চাটমোহর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের মহেলা দক্ষিণপাড়া গ্রামের খামারী আব্দুল্লাহ আল মাসুদের খামারে রয়েছে এই ষাঁড় গরুটি। আসন্ন কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে গরুটিকে দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজা করেছেন তিনি। এমনিতে শান্ত স্বভাবের হলেও অপরিচিত মানুষ দেখলেই গর্জন শুরু করে বলে তার নাম ‘পালোয়ান’ রেখেছেন খামার মালিক মাসুদ।

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ জানান, ছয় বছর ধরে গরুর খামার করে আসছেন তিনি। উপজেলার বোঁথড় গ্রামের একটি খামার থেকে দুই বছর আগে এক লাখ ২০ হাজার টাকায় গরুটি কেনেন তিনি। তারপর থেকে গরুটি লালন পালন ও দেশীয় খাবার খাইয়ে মোটাতাজা করেন।

তিনি জানান, বর্তমানে চার বছর বয়সী গরুটির ওজন দাঁড়িয়েছে ৩০ মণে। কোরবানী উপলক্ষ্যে গরুটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে কয়েকজন ব্যাপারি বাড়িতে এসে পালোয়ানকে দেখে ৯ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম বলেছেন। ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারলে কিছু লাভ হবে বলে জানান মাসুদ।

মাসুদ জানান, প্রতিদিন দুই বেলা প্রায় দশ কেজি খাবার খায় পালোয়ান। এর মধ্যে রয়েছে গমের ভূষি, ধানের গুড়া, খেসারি, জব, ভুট্টা, শুকনো খড় ও কাঁচা ঘাস। প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৪শ’ টাকার খাদ্য লাগে পালোয়ানের। কোনো ধরনের মেডিসিন ব্যবহার করা হয়নি। মাসুদ, তার স্ত্রী ও এক ভাই মিলে পালোয়ানকে লালন পালনের কাজ করেন। 

এদিকে প্রতিদিনই আশপাশের এলাকা থেকে অনেকেই গরুটি দেখতে আসছেন। কেউ পালোয়ানের সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুকে দিচ্ছেন। গরু দেখতে আসা আব্দুর রাজ্জাক ও খলিল উদ্দিন আবীর বলেন, বড় আকৃতির গরুর কথা শুনে দেখার আগ্রহ হয়েছিল। তাই দেখতে আসছি। দেখে মনে হচ্ছে চাটমোহরে এত বড় আকারের গরু আর নেই। আমরা ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়েছি, অনেকে নানারকম মন্তব্য করছেন দেখে ভালই লাগছে।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: মহির উদ্দিন জানান, আমরা খামারিদের উৎসাহিত করি মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে গরু মোটাতাজা করতে। কারণ বেশি বড় আকৃতির গরু সবাই কিনতে পারেন না। অনেক সময় বিক্রি না হলে খামারিরা ক্ষতিগ্রস্থ হন। তারপরও প্রাণী সম্পদ বিভাগ সবসময় খামারিদের পাশে আছে। বিভিন্নভাবে পরামর্শ, ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। খামারি মাসুদের গরুটিও আমরা দেখেছি। সেটি সুস্থ, সবল আছে। আশা করছি তিনি কাঙ্খিত দামে গরুটি বিক্রি করতে পারবেন।

আরও পড়ুন

×