ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজার সৈকতে বর্জ্যের স্তুপ, মরছে কচ্ছপ

কক্সবাজার সৈকতে বর্জ্যের স্তুপ, মরছে কচ্ছপ
×

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পড়ে আছে মৃত কচ্ছপ

আবু তাহের, কক্সবাজার অফিস

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২০ | ১০:১৮ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০২০ | ১০:৪৫

পর্যটকবিহীন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে জোয়ারের পানিতে ভেসে আসছে বোতল, ছেড়া জাল, প্লাস্টিক বর্জ্যসহ নানা ধরনের আবর্জনা। সেইসঙ্গে ভেসে আসছে মৃত কচ্ছপ। 

স্থানীয়রা বলছেন, ব্যাপক হারে বর্জ্য, সেইসঙ্গে এত বেশি কচ্ছপ মারা যাওয়ার ঘটনা সম্প্রতি আর দেখা যায়নি। পরিবেশ কর্মীরা শতাধিক অসুস্থ কচ্ছপ উদ্ধার করে সাগরে অবমুক্ত করেছেন। 

রোববার সকালে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কলাতলী পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায় সাগরের পানিতে ভেসে আসছে নানা প্রকার প্লাস্টিক বর্জ্য, কাঁচের বোতল, ছেড়া জালসহ নানা ধরনের আবর্জনা। ঢেউয়ে এসব বর্জ্য আটকা পড়ছে উপকূলের বালুর চরে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দেখা গেছে, প্লাস্টিক বর্জ্য ও কাঁচের বোতল সংগ্রহ করে বস্তা ভর্তি করছেন লোকজন। আবর্জনাগুলো পড়ে থাকছে সৈকত তীরে। 

একই অবস্থা সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে হিমছড়ি পর্যন্ত। দেখা গেছে, সৈকতে মরে পড়ে রয়েছে বড় বড় কচ্ছপ। তার কোন কোনটি কুকুর ও কাকের খাবারও হচ্ছে। কোনো কোনো স্থানে অসুস্থ কচ্ছপ উদ্ধার করে পুনরায় সাগরে অবমুক্ত করছেন কেউ কেউ। 

কলাতলী সৈকতে কথা হয় নাজিম উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য জেয়ারের পানিত সৈকতে উঠে আসছে। সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে হিমছড়ি পর্যন্ত অংশে সব চেয়ে বেশি বর্জ্য।

কলাতলী আদর্শ গ্রামের যুবক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ছেড়া জাল, প্লাস্টিক বোতল, কন্টেইনার শনিবার রাত থেকে কক্সবাজার উপকূলে ভেসে আসতে শুরু করেছে। এসব প্লাস্টিক বর্জ্য স্থানীয়রা কিছু সংগ্রহও করছে।

সুগন্ধা পয়েন্টের ব্যবসায়ী আল আমিন বলেন, আজ সকালে দেখেছি ৫-৬ টা কাছিম পড়ে রয়েছে। তারমধ্যে একটি কাছিম তখনও জীবিত দেখা যায়। তা উদ্ধার করে সাগরে ছেড়ে দিয়েছি। 

সৈকতের এই ব্যবসায়ী বলেন,বড় বড় জাহাজ থেকে এই বর্জ্যগুলো ফেলা হচ্ছে। এসব বর্জ্য উপকূলে এসে পরিবেশ নষ্ট করে দিচ্ছে।

কলাতলী সৈকতে মাছ শিকার করছেন এলাকার জেলে জসিম উদ্দিন (৫৫)। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকে সৈকতে মাছ শিকার করছি। কিন্তু এমন ব্যাপক হারে আবর্জনা ভেসে আসতে আর দেখা যায়নি। 

এদিকে, সৈকতে প্লাস্টিক বর্জ্য দেখে এসব অপসারণের কাজ করছেন ‘প্লাস্টিক ব্যাংক বাংলাদেশ’ নামে স্বেচ্ছাসেবী একটি সংগঠন। এই সংগঠনের কর্মী সাকির আলম বলেন, কক্সবাজার সৈকতে যে প্লাস্টিক বর্জ্যগুলো দেখা যাচ্ছে এসব বর্জ্য বাংলাদেশের নয়। এটা অন্য কোন দেশের। এখানে বিদেশি বিভিন্ন মদের বোতল, বড় বড় প্লাস্টিক কন্টেইনার ও বোতল রয়েছে। মনে হচ্ছে এগুলো জাহাজ থেকে ফেলে দেওয়া বর্জ্য। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ থেকেও আসতে পারে। 

রোববার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ১০ টন প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ করেছে বলে জানান এই সংগঠনের কর্মীরা। 

পরিবেশ কর্মীদের অভিযোগ, বর্জ্যের আঘাতে আহত ও অসুস্থ কচ্ছপগুলোকে বাঁচাতে সরকারি কোনো দপ্তরের কর্মীরা এগিয়ে আসেনি। 

‘সেভ দ্যা নেচার অব বাংলাদেশ’ নামে একটি পরিবেশ সংগঠনের চেয়ারম্যান আ ন ম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, সৈকতে বর্জ্য ভেসে আসার ব্যাপারে সরকারের সব দপ্তরকে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ আসেনি। 

তিনি বলেন, সকাল থেকে বার বার চেষ্টা করছিলাম প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে। কারণ সৈকতে ভেসে আসা ছেড়া জালে আটকা পড়ে অনেক কচ্ছপ মারা গেছে। কিছু আহত পাওয়া গেছে। চিকিৎসা দিয়ে এগুলো সৈকতে ছেড়ে দেওয়া হলে হয়ত বাঁচানো যেত।

তিনি আরও বলেন, সৈকতে সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে হিমছড়ি পর্যন্ত অংশে শনিবার রাত থেকে রোববার বেলা ১২টা পর্যন্ত সেভ দ্য নেচারের সদস্যরা শতাধিক কচ্ছপ পুনরায় সাগরে অবমুক্ত করেছে। 



আরও পড়ুন

×