ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

সফর শেষে আইএমএফ মিশন

নতুন ঋণের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলতে থাকবে

নতুন ঋণের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলতে থাকবে
×

ছবি: সংগৃহীত

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ১৮:৪৩ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ১৯:২১

বাংলাদেশকে নতুন ঋণ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা আগামী মাসগুলোতে চলতে থাকবে। এই আলোচনা হবে ঋণের সম্ভাব্য আকার, পরিধি এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত সংস্কার অঙ্গীকার নিয়ে। পাঁচ দিনের ঢাকা সফর শেষে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি মিশন এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

সফর শেষে আইএমএফ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মিশন মনে করছে, প্রবৃদ্ধি কমে সাড়ে ৩ শতাংশে নামতে পারে । রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতের চাপ অব্যাহত থাকলে মধ্যম মেয়াদে তা ৩ শতাংশেরও নিচে নেমে যেতে পারে। রাজস্ব আহরণ জোরদার এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা দূর করতে সংস্কার এগিয়ে নেওয়া গেলে মধ্যম মেয়াদে অর্থনীতির সম্ভাবনা উন্নত হবে।

প্রসঙ্গত, চলতি অর্থবছরে সরকার সাড়ে ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে নতুন অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল গত ১২ জুলাই ঢাকায় আসে।

আজ বৃহস্পতিবার তারা অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সমাপনী বৈঠক করেন। সফরে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি সরকারের সংস্কার অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়। এর আগে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেওয়া ঋণ পাঁচ কিস্তি নেওয়ার পর দু’পক্ষের সম্মতিতে স্থগিত করা হয়। 

মিশন বলেছে, বাংলাদেশ এখনও রাজস্ব, আর্থিক খাত এবং মূল্যস্ফীতিজনিত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আমদানি ব্যয় ও ভর্তুকির খরচ বেড়েছে, মূল্যস্ফীতির চাপ তীব্র হয়েছে এবং ব্যাংকিং খাতের বিদ্যমান চাপ আরও বেড়েছে।

ঢাকায় আইএমএফের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির কর্মকর্তা ইভো ক্রজনার। সরকারের নতুন আইএমএফ-সমর্থিত কর্মসূচির অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এ সফর অনুষ্ঠিত হয়। সফরের উদ্দেশ্য ছিল সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং সরকারের সংস্কার অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা।

বিবৃতিতে ইভো ক্রজনার বলেন, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং তাদের নীতিগত অগ্রাধিকার নিয়ে আমাদের গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। তথ্য-সংগ্রহমূলক সফরের মাধ্যমে সরকারের নীতিগত পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক সংস্কারের অগ্রাধিকার এবং সক্ষমতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা পাওয়া গেছে। নতুন সম্ভাব্য কর্মসূচির পরিধি, ঋণের আকার এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্কার অঙ্গীকার নিয়ে আগামী কয়েক মাসে আলোচনা হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এখনও রাজস্ব, আর্থিক খাত ও মূল্যস্ফীতিজনিত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আরও তীব্র হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়িয়েছে এবং ভর্তুকি ব্যয় বাড়িয়েছ। এর ফলে সরকারের সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার ওপর আরও চাপ সৃষ্টি হয়েছে। আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। যদিও প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স শক্তিশালী রয়েছে। ব্যাংকিং খাতের চাপও এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

তার মতে, সামাজিক সুরক্ষা ও উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর জন্য রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং ভর্তুকি ব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কার প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাজস্ব সংস্কারের প্রভাব থেকে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সহায়তা জোরদার করা দরকার। মূল্যস্ফীতি কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনের জন্য কঠোর মুদ্রানীতি ও বিচক্ষণ রাজস্বনীতি অব্যাহত রাখা উচিত। 

ইভো ক্রজনার আরও বলেন, ২০২৫ সালে চালু করা ‘ক্রলিং পেগ’ বিনিময় হার ব্যবস্থা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করলে বিনিময় হার আরও নমনীয় হবে এবং বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন বিশ্বাসযোগ্য ও সমন্বিত কৌশলের আওতায় পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন। ব্যাংক খাতে সুশৃঙ্খল সংস্কার সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে এবং বিনিয়োগে সহায়তা করবে।

আরও পড়ুন

×