জাতিসংঘের আশঙ্কার মধ্যেই টেকনাফ উপকূলে ভাসমান মরদেহ উদ্ধার
ফাইল ছবি
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ১৯:৪১
মিয়ানমারের উপকূলে রোহিঙ্গা বহনকারী দুটি নৌকাডুবির ঘটনায় ৫০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করেছে জাতিসংঘ। তাদের মধ্যে বাংলাদেশের শরণার্থীশিবির থেকে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করা রোহিঙ্গারাও ছিলেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
এ ঘটনার মধ্যেই কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলে তিনটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার এবং বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের একাধিক ভাসমান মরদেহ দেখার দাবি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। যদিও উদ্ধার হওয়া কিংবা সাগরে দেখা মরদেহগুলোর সঙ্গে মিয়ানমার উপকূলের নৌকাডুবির ঘটনার সরাসরি কোনো সম্পর্ক এখনো নিশ্চিত হয়নি।
গত ১১ জুলাই বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিনের কয়েকজন জেলে গভীর সাগরে একাধিক নারীর ভাসমান মরদেহ দেখতে পান বলে দাবি করেছেন। তাদের দাবি, মরদেহগুলো দেখে আতঙ্কিত হয়ে তারা জাল গুটিয়ে দ্রুত অন্যদিকে চলে যান।
শাহপরীর দ্বীপের ট্রলারের মাঝি আবু বকর বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ আগে মাছ ধরতে গিয়ে জাল তোলার সময় দূরে বেশ কয়েকজন নারীর ভাসমান মরদেহ দেখতে পাই। দৃশ্যটি দেখে ভয় পেয়ে দ্রুত ট্রলার অন্যদিকে নিয়ে যাই। তখন সাগরে প্রবল বাতাস ছিল। আমার ধারণা, মরদেহগুলো রোহিঙ্গাদের হতে পারে।
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান শাহপরীর দ্বীপের আরেক জেলে সৈয়দ আলম মাঝি। তিনি বলেন, গত সপ্তাহে মাছ ধরা শেষে ফেরার পথে সেন্টমার্টিনের দক্ষিণে সাগরে দুটি শিশুসহ চারটি মরদেহ ভাসতে দেখি। তখনই মনে হয়েছিল এগুলো মালয়েশিয়াগামী কোনো ট্রলারডুবির শিকার হতে পারে।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক দিনে টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন উপকূলসংলগ্ন এলাকা থেকে তিনটি অর্ধগলিত নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলোর কোনোটির হাত, আবার কোনোটির মাথা ছিল না।
তিনি বলেন, মিয়ানমার উপকূলে রোহিঙ্গাবাহী ট্রলারডুবির খবর গণমাধ্যমে দেখেছি। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর পরিচয় এবং নাফ নদী ও সাগরে ভাসমান মরদেহের বিষয়ে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি।
রোহিঙ্গা নেতাদের অভিযোগ, রাখাইনে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ও চাপ অব্যাহত রয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। এ সময় জনপ্রতি বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে।
উখিয়ার রোহিঙ্গা নেতা ড. জোবাইর বলেন, রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের সম্পূর্ণভাবে বিতাড়িত করার চেষ্টা চলছে। নানা প্রলোভন দেখিয়ে বর্ষাকালে তাদের সমুদ্রপথে পাঠানো হচ্ছে, যা অনেকের জন্য মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। নৌকাডুবিতে আমাদের ক্যাম্পের রোহিঙ্গারাও ছিলেন বলে জানতে পেরেছি। তবে স্বজন হারানোর ভয়ে অনেকে এখনো প্রকাশ্যে কথা বলছেন না।
এর আগে গত ১১ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে গভীর সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় এক নারীসহ নয়জনকে জীবিত উদ্ধার করে ভারতীয় কোস্ট গার্ড। সেই ঘটনার পর টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকায় নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজনরা তাদের খোঁজে মরিয়া হয়ে ওঠেন। স্থানীয়দের দাবি, ওই সময়ের ট্রলারডুবির ঘটনায় এখনো শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
এদিকে জাতিসংঘের সর্বশেষ আশঙ্কা এবং টেকনাফ উপকূলে একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো মিয়ানমার উপকূলে ডুবে যাওয়া নৌকার যাত্রীদের কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
- বিষয় :
- কক্সবাজার
- টেকনাফ
- মরদেহ উদ্ধার
- জাতিসংঘ