ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

অনিয়ন্ত্রিত মাটি কাটায় শেষ আশ্রয় হারানোর শঙ্কায় বিধবা নারী

অনিয়ন্ত্রিত মাটি কাটায় শেষ আশ্রয় হারানোর শঙ্কায় বিধবা নারী
×

ছবি- সমকাল

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ২০:৩৫ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ২০:৩৫

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে মাটি কাটার কারণে কৃষিজমি ও চলাচলের রাস্তার পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়েছে বসতবাড়িও। এমন পরিস্থিতিতে শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর শঙ্কায় দিন কাটছে উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের টাকিয়াকদমা সিতারচালা গ্রামের বিধবা সাহারা খাতুনের।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টানা বৃষ্টিতে সাহারা খাতুনের ঘরের পাশের মাটি ধসে পড়ছে। বাঁশ ও পলিথিন দিয়ে সাময়িকভাবে ঘর রক্ষার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। আতঙ্কে রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন না তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী সাহারা খাতুন দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করেন। বড় ছেলে আলাদা সংসার করছেন। ছোট ছেলে গোড়াই শিল্প এলাকায় একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন এবং অন্যত্র থাকেন। একমাত্র মেয়ে মজিরন বেগম মায়ের সঙ্গেই থাকেন। ছোট ছেলের সামান্য আয়ে কোনোমতে সংসার চলে।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, সাহারা খাতুনের বাড়ির পূর্ব পাশে প্রতিবেশীর প্রায় ৩০ থেকে ৩২ শতাংশ জমির মাটি কয়েক বছর আগে ভেকু দিয়ে কেটে নেওয়া হয়। জমির নতুন মালিকের কাছ থেকে মাটি কিনে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা একেবারে সীমানা ঘেঁষে গভীরভাবে মাটি কেটে ফেলেন। এতে সাহারা খাতুনের বাড়ির নিচের অংশ প্রায় ১৫ থেকে ১৬ ফুট নিচু হয়ে যায় এবং ঘরটি ঝুঁকির মুখে পড়ে।

পরিবারের অভিযোগ, মাটি কাটার সময় বাধা দেওয়া হলেও ব্যবসায়ীরা তা উপেক্ষা করেন। এরপর থেকেই ঘরটি রক্ষার দুশ্চিন্তায় ছিলেন সাহারা খাতুনের স্বামী ইসমাইল হোসেন। পরিবারের দাবি, সেই মানসিক চাপের মধ্যেই তিনি মারা যান।

সাহারা খাতুন বলেন, ঘরের চিন্তায় রাতে ঘুমাতে পারি না। মনে হয়, এই বুঝি ঘরটা ভেঙে পড়বে। মাটি কাটার সময় অনেক অনুরোধ করেছি, কিন্তু কেউ কথা শোনেনি। নতুন করে ঘর করারও সামর্থ্য নেই।

প্রতিবেশী ইউসুফ খান বলেন, এভাবে সীমানা পর্যন্ত মাটি কাটার ঘটনা খুবই অমানবিক। এক ইঞ্চি জায়গাও রাখা হয়নি।

মেয়ে মজিরন বেগম বলেন, স্বামীর সংসারে থাকতে পারিনি, এখন মায়ের সঙ্গে আছি। এই ঘরটাও যদি না থাকে, তাহলে আমরা কোথায় যাব?

লতিফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হোসেন রনি বলেন, ঘটনাটি আমার চেয়ারম্যান হওয়ার আগের। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এটি অত্যন্ত অমানবিক কাজ হয়েছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক আজিজ বলেন, মানবিক দিক বিবেচনায় অসহায় ওই নারীর বিষয়ে খোঁজ নিয়ে সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

আরও পড়ুন

×