ফল জালিয়াতি: সেই শিক্ষা কর্মকর্তা বরখাস্ত
রাখী চক্রবর্তী
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৫ | ০৩:১৯ | আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৫ | ০৬:১১
প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফলাফল জালিয়াতির অভিযোগে করা বিভাগীয় মামলায় বোয়ালিয়া থানার তৎকালীন শিক্ষা কর্মকর্তা রাখী চক্রবর্তীকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ২ জুলাই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত ও শৃঙ্খলা শাখা থেকে এ আদেশ জারি করা হয়। এতে সই করেন সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা।
আদেশে বলা হয়েছে, রাখী চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে করা বিভাগীয় মামলায় আনীত অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় অভিযোগের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিক সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৪ (৩) (গ) মোতাবেক ‘চাকরি হতে অপসারণ’ নামীয় গুরুদণ্ড দেওয়া হলো। একই সঙ্গে তার সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার করা হলো।
এর আগে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৩ (খ) ও ৩ (ঘ) অনুযায়ী অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর বিভাগীয় মামলা করা হয়। এ বিষয়ে তার দেওয়া জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাকে এ গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বিভাগীয় মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘নম্বর ফর্দ এবং সমাপনী পরীক্ষার গোপনীয় কাগজপত্র ও কম্পিউটার তৎকালীন বোয়ালিয়া থানা শিক্ষা কর্মকর্তা রাখী চক্রবর্তীর কক্ষে তার নিয়ন্ত্রণে রাখা ছিল। নম্বর টেম্পারিংয়ের কাজটি তৃতীয় কারও পক্ষে করা সম্ভব ছিল না।’
রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম আনোয়ার হোসেন জানান, রাখী চক্রবর্তীকে বরখাস্ত করার আদেশটি তিনি পেয়েছেন। তার নামে দুদকের পৃথক মামলা আদালতে চলমান।
এ বিষয়ে জানতে রাখী চক্রবর্তী মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বোয়ালিয়া থানার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৪০ জন শিক্ষার্থীর খাতায় প্রাপ্ত নম্বরের চেয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে কম্পিউটারে ফলাফল প্রস্তুত করে বেশি নম্বর দেওয়া হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমে এলে রাজশাহীতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) সাইফুল ইসলাম তদন্ত করেন। পরে মহাপরিচালকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সেই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাখী চক্রবর্তীসহ তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে বিভাগীয় মামলা হয়। এদের আরেকজন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও) আবুল কাশেমকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। পরে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চেয়ে চাকরি ফিরে পেলেও পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপর একটি অভিযোগে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। অন্য কর্মচারী সোনিয়া রওশনকে বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
- বিষয় :
- শিক্ষা কর্মকর্তা
- বরখাস্ত
