বড়পুকুরিয়া খনি কর্তৃপক্ষের প্রবেশ ঠেকাতে লাল পতাকা
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির বিরূপ প্রভাব ও জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ চেয়ে খনি এলাকায় মানববন্ধন করেন গ্রামবাসী সমকাল
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৫ | ২৩:৪৪
‘জমি অধিগ্রহণ করতে খনি কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে না এসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আঁতাত করছে। তাই আমাদের জমিতে খনি কর্তৃপক্ষকে প্রবেশ করতে দেব না। সে কারণে লাল পতাকা টাঙিয়ে দিলাম। এর পরও বিনা অনুমতিতে তাদের কেউ জমিতে প্রবেশ করলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য তারাই দায়ী থাকবে।’
গতকাল রোববার বেলা ১১টায় দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির পূর্বপাশে ৯ নম্বর হামিদপুর ইউনিয়নের চৌহাটি ও বাঁশপুকুর কাজীপাড়ার মধ্যবর্তী জমিতে মানববন্ধন করে কথাগুলো বলেন কয়লা খনির বিরূপ প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসী। কৃষি ও বসতবাড়ি রক্ষা কমিটি এবং জীবন ও বসতভিটা রক্ষা কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে দুই গ্রামের কয়েক শ নারী-পুরুষ অংশ নেন।
কৃষি ও বসতবাড়ি রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক মাহমুদুন্নবী সোহানের সভাপতিত্বে কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য দেন আন্দোলন কমিটির
উপদেষ্টা এস এম নুরুজ্জামান জামান, কৃষি ও বসতবাড়ি রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব সালমান মাহমুদ, কমিটির সহসভাপতি মাহামুদুন্নবী মিলন, জীবন ও বসতভিটা রক্ষা কমিটির অর্থ উপদেষ্টা আতাউর রহমান, তুহিন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ‘কয়লা খনি করার সময় নানারকম প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তা বাস্তবায়ন করেনি কর্তৃপক্ষ। ভূগর্ভে বোমা বিস্ফোরণের কারণে বাড়িঘরে ফাটল ধরছে। ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। পানির সংকট দেখা দিচ্ছে। বারবার আন্দোলন-সংগ্রাম করলেও মিথ্যা আশ্বাস, জরিপ, অনুসন্ধান, তদন্তের নামে সময়ক্ষেপণ করছে।’
উল্লেখ্য, পাঁচ দফা দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে আসছেন গ্রামবাসী। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে– ভূগর্ভে বিস্ফোরক ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরের ক্ষতিপূরণ প্রদান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার রাস্তাঘাট মেরামত, এলাকার বেকার ছেলেমেয়েদের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি প্রদান, সিআরএস ফান্ড থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সুপেয় পানির সংকট দূর করা।
বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের প্ল্যানিং অ্যান্ড এক্সপ্লোরেশনের মহাব্যবস্থাপক আবু তাহের মো. নুর-উজ-জামান চৌধুরী সমকালকে বলেন, আমার সঠিক জানা নেই, কী বিষয়ে খনি এলাকার লোকজন আন্দোলন করছেন। তবে ক্ষতিগ্রস্তরা যদি ক্ষতিপূরণ না পান, তাহলে তো তারা আন্দোলন করবেনই। এটাও মানতে হবে যে, জমি জরিপ এবং ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সংশ্লিষ্টদের প্রবেশ করতে দিতে হবে। তা না হলে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে ভূমিকা রাখতে পারবেন না তারা।
বড়পুকুরিয়া খনির মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) খান মো. জাফর সাদিক সমকাল প্রতিবেদককে বলেন, ‘গ্রামবাসীর সমস্যাগুলো সার্ভে করার জন্য কমিটি করা হয়েছে। কমিটির লোকজন সার্ভে করে সমস্যা চিহ্নিত করার পর সমাধানের চেষ্টা করব। কিন্তু গ্রামবাসী এলাকায় প্রবেশ করতে না দিলে কী করে সার্ভে করব? জমি অধিগ্রহণ করতে হলে ক্ষতিগ্রস্তসহ এলাকার সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’
- বিষয় :
- কয়লা খনি
