নিষিদ্ধ জালে মাছের সর্বনাশ
পদ্মা ও বড়ালে হুমকিতে মাছসহ জলজপ্রাণী
বড়াল নদে অবৈধ জাল পেতে মাছ ধরছেন জেলেরা। চারঘাটের শিমুলিয়া সেতু এলাকা। ছবি: সমকাল
সনি আজাদ, চারঘাট (রাজশাহী)
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৫ | ০৪:৩৮
রাজশাহীর চারঘাটের পুঠিমারী সেতু এলাকায় বড়াল নদে ছোট-বড় অসংখ্য নৌকায় করে চায়না দুয়ারী জাল ফেলছেন জেলেরা। মিহি এ জালে ধরা পড়ছে ছোট-বড় মাছের পাশাপাশি ছোট জলজপ্রাণী। এমনকি ছেঁকে উঠছে মাছের ডিমও। মাছ পেয়ে আনন্দে আত্মহারা জেলেরা।
এ সময় কথা হয় তালিকাভুক্ত জেলে খাইরুল ইসলামের সঙ্গে। হাসিমুখে এই জেলে বলেন, ‘এই ফাঁদে মাছ ধরতে পরিশ্রম করতে হয় না। এ কারণে মৌসুমের শুরুতেই জাল পেতেছি। আর কোনো কাজ নেই। প্রতিদিন ৮-১০ বার ফাঁদের শেষ মাথায় তুলে মাছ সংগ্রহ করি। সব ধরনের মাছই আটকা পড়ে। এ জাল পাতলে কখনও নিরাশ হতে হয় না।’
পুঠিমারী সেতু এলাকা ছাড়াও এ দৃশ্যের দেখা মেলে পদ্মাপারের ইউসুফপুর, মুক্তারপুর, গোপালপুর, পিরোজপুর ও রাওথা এলাকা এবং বড়ালের উৎসমুখ ও আড়ানী সেতু এলাকায়। শত শত ছোট ডিঙি নৌকা ও বড় নৌকা নদীর তীরের দিকে নোঙর করে রেখেছেন জেলেরা। খোঁজ নিতেই জানা গেল, তারা মাছের বংশ ধ্বংসকারী ‘চায়না দুয়ারী’ নামের ফাঁদ ফেলে বসে আছেন। তাদের মধ্যে তালিকাভুক্ত জেলেরাও আছেন।
বর্ষার শুরুতে পদ্মা থেকে বড়াল নদের মাধ্যমে চলনবিলে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। এখন মাছ কমে গেছে। এর জন্য নদ-নদীতে পানি না থাকার পাশাপাশি অবৈধ জালকে দায়ী করছেন জেলেরা।
মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চারঘাটে পদ্মা ও বড়ালের ৭৬৭ হেক্টর জায়গায় বিভিন্ন প্রজাতির মিঠাপানির দেশি মাছ ও প্রাকৃতিক জলজপ্রাণীর অভয়ারণ্য রয়েছে। তা থেকে প্রতি বছর ১ হাজার ৯৭৫ টন দেশি মাছ উৎপাদন হয়ে থাকে; যা পুরো রাজশাহীর দেশীয় মাছের অন্যতম জোগানদাতা। মৎস্য বিভাগ আইন করে ২০২১ সালে ক্ষতিকর দুয়ারী জাল বিক্রি ও ব্যবহার নিষিদ্ধও করেছে। প্রকাশ্যে এ জাল বিক্রি ও মাছ ধরা হলেও জনবল সংকটের অজুহাতে মৎস্য অফিসের পক্ষ থেকে কোনো অভিযান বা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
মুক্তারপুর এলাকার পদ্মাপারের জেলে রবিউল ইসলাম বলেন, ‘এই জালে মাছের পোনা, রেণু, জাটকাসহ সব আটকে যায়। জলজপ্রাণী; এমনকি ছেঁকে উঠছে মাছের ডিমও। আমরা যারা বাঁশ-বেতের তৈরি সরঞ্জাম দিয়ে মাছ ধরি, তারা নদীতে যাওয়া বন্ধ করেছি।
জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জনবল সংকটের কারণে অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে নদীতে অভিযান শুরু করা হবে।
চন্দনশহর মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি আলতাফ হোসেন জানান, উপজেলায় কার্ডধারী জেলের সংখ্যা ১ হাজার ৩৭৪ জন। তাদের মধ্যে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করা জেলের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। প্রথম কয়েকজন জেলে এই ফাঁদ ব্যবহার শুরু করেন। এতে অন্য জেলেরা দীর্ঘ সময় জাল ফেলেও মাছ পান না। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ এর ব্যবহার শুরু করেন।
