ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পাবনায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ, গুলিতে আহত ১২

পাবনায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ, গুলিতে আহত ১২
×

কয়েকজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ছবি: সমকাল

পাবনা অফিস

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৫ | ১৮:১৪ | আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৫ | ১৮:৪২

পাবনা শহরের মন্ডলপাড়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। এদের কয়েকজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মন্ডলপাড়া জামে মসজিদের পাশের বউবাজার ক্লাব এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। একপক্ষের নেতৃত্বে ছিল স্বেচ্ছাসেবক লীগের পৌর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তুহিন ওরফে ল্যাংড়া তুহিন। অপরপক্ষের নেতৃত্বে ছিল রানা শেখ ও সানজিদ। তারা তিনজনই স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতিতে জড়িত থাকলেও ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রানা শেখ ও সানজিদ পাবনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনিছুল হক বাবুর অনুসারী হিসেবে পরিচিতি পায়।

সংঘর্ষে আহতরা হলেন- মো. ইমরান, শহিদুল ইসলাম মিলন, সোহান, মাহফুজ, তাহাত, বিজয়, জাফর, রিয়েল, জুয়েল, হাসিফ, নওশাদ ও প্রান্ত। তাদের বাড়ি মন্ডলপাড়া ও কাচারিপাড়া এলাকায়। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরেই মন্ডলপাড়ায় দুটি গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। এর আগে একাধিকবার বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। মঙ্গলবার রাতে সেই উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। ওইদিন স্বেচ্ছাসেবক লীগের পৌর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তুহিন ওরফে ল্যাংড়া তুহিনের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন লাঠি, রড, ছোরা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ক্লাব এলাকায় হামলা চালায়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে তারা একটি একনলা বন্দুক দিয়ে গুলি ছোড়ে। এতে প্রতিপক্ষের বেশ কয়েকজন রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে রানা শেখ ও সানজিদের নেতৃত্বে পাল্টা হামলা চালালে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পাবনা সদর থানা, ডিবি ও ডিএসবি পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে ছয়টি গুলির খালি খোসা ও বেশ কয়েকটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়। সন্দেহভাজন হিসেবে নাজিম (২৬) নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তার দেহ তল্লাশি করে একটি বড় ছোরা ও দুটি বন্দুকের খালি খোসা উদ্ধার করা হয়।

পাবনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনিছুল হক বাবু বলেন, এই হামলায় যারা জড়িত, তাদের অনেকেই ছাত্র হত্যা মামলার আসামি। অথচ তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রশাসন তাদের গ্রেপ্তার করছে না। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্লিপ্ততায় সন্ত্রাসীরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

তিনি আরও বলেন, শহরে আধিপত্য বিস্তারের নামে যে সহিংসতা বাড়ছে, তা এখনই কঠোরভাবে দমন না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের অরাজকতার আশঙ্কা রয়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

পাবনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম বলেন, ঘটনার পরপরই আমরা পুলিশের একাধিক ইউনিট পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। একজনকে আটক করা হয়েছে। সংঘর্ষে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

আরও পড়ুন

×