সীমান্তঘেষাঁ শহরের নিরাপত্তায় বসানো সিসি ক্যামেরা গায়েব
পাঁচবিবি শহরের এ খুঁটিতে আগে চারটি সিসি ক্যামেরা থাকলেও সব উধাও হয়ে গেছে সমকাল
শাহারুল আলম, জয়পুরহাট
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৫ | ২৩:৪২
ভারতীয় সীমান্তবর্তী জেলা জয়পুরহাট। এ জেলার পাঁচবিবি উপজেলা সীমান্তের প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত। এখানে চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো শহরে দুই শতাধিক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। জেলা শহরের নিরাপত্তায়ও এমন ব্যবস্থা নেই। অথচ ক্যমেরাগুলোর বেশির ভাগই উধাও হয়ে গেছে। ফলে চোরাচালান, চুরি, ছিনতাই, হত্যার মতো ঘটনাসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
গত বছরের ৫ আগস্ট এসব ক্যামেরা খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে জানিয়ে তারা বলছেন, এতে অপরাধীদের চোরাচালানসহ অপরাধ সহজ হয়েছে। অটোরিকশাচালক ফরিদুল ইসলামের ভাষ্য, ‘সিসি ক্যামেরা থাকতে রাতেও কোনো ভয় লাগত না। এখন দিনের বেলায় অটোরিকশা নিয়ে চলাচল করা যায় না। রেখে এক মিনিটও দাঁড়ানো যায় না। দিনে-রাতে ছিনতাই, চুরি, প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটছে।’ এদিকে প্রশাসনের অপরাধী শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। যদিও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিগগিরই এগুলো পুনঃস্থাপন করা হবে।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সীমান্তঘেষাঁ উপজেলা পাঁচবিবিতে একটি পৌরসভাসহ সাতটি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। মূলত পৌরসভা সীমান্তের প্রবেশপথ। এর আয়তন প্রায় ১০ কিলোমিটার। ঘনবসতিও রয়েছে। সীমান্ত এলাকা হওয়ায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হওয়ার নজিরও রয়েছে। এসব রোধে এবং অপরাধীদের সহজে শনাক্ত করতে শহরে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় পৌর ও থানা প্রশাসন।
২০২৩ সালে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দুই শতাধিক ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। তখন থেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমে আসে। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের দিন অনেকে এসব খুলে নিয়ে যায়। শহরের ভেতরে কিছু স্থানে দু-একটি দেখা গেলেও তার ছেঁড়া থাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তদারকি হয় না এসব ক্যামেরায়। তখন থেকে আর শহরে নতুন করে ক্যামেরা স্থাপন করা হয়নি। যেগুলো আছে তাও সংস্কার করা হয়নি।
জানা গেছে, গত কয়েক মাসে উপজেলায় বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চুরির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, সিসি ক্যামেরা না থাকায় চুরির ঘটনা ঘটেছে অর্ধশতাধিক। রাতের চেয়ে দিনে এসব ঘটেছে বেশি বলে অভিযোগ তাদের। গত ২৫ জুন পৌর শহরের দানেজপুর মহল্লার বাসিন্দা ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিমকে প্রকাশ্যে লাঠির আঘাতে হত্যা করার ঘটনা ঘটে।
গত ১৪ এপ্রিল (পহেলা বৈশাখ) সন্ধ্যায় ছাত্রদল নেতা শামীম হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। পরে মামলা হলেও পুলিশ কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি। সরেজমিন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, দুই শতাধিক সিসি ক্যামেরার মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি অকেজো পড়ে আছে।
পৌর শহরের বাসিন্দা ও বড় মানিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল হাই বলেন, ‘সব ক্যামেরা তো আর নিয়ে যায়নি। যে কয়টি আছে, অন্তত সেগুলো চালুর ব্যবস্থা করা জরুরি। তাহলে অপরাধ কিছুটা কমে আসবে।’ পাঁচবিবি বণিক সমিতির সভাপতি তাইজুল ইসলামের কথায়, ‘আগে ব্যবসায়ীরা খুব স্বাচ্ছন্দ্যে ক্রয়-বিক্রয় করেছে। এখন একের পর এক ঘটনা ঘটায় ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে ব্যবসা করছেন। ক্যামেরাগুলো লাগালে আতঙ্ক কমে যাবে। দ্রুত এগুলো পুনঃস্থাপনের দাবি জানাচ্ছি।’
ইতোমধ্যে শহরের সিসি ক্যামেরাগুলোর পয়েন্ট নির্ধারণের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মারুফ আহসান। তিনি বলেন, এ কাজ তিন সদস্যের একটি কমিটি দেখভাল করছে। খুব শিগগিরই ক্যামেরাগুলো পুনঃস্থাপনের কাজ শেষ হবে।
পাঁচবিবি থানার ওসি মইনুল ইসলাম বলেন, ‘পৌরসভা ও থানার উদ্যোগে ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হয়েছিল। ৫ আগস্টের দিন অধিকাংশই খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে শুধু যে জনসাধারণই সমস্যায় পড়েছে তা নয়, আমরাও বেকায়দায় আছি। নতুন করে আবার ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কাজও শুরু হবে খুব দ্রুত।’
- বিষয় :
- সিসি ক্যামেরা
