ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নওগাঁয় পৃথক মামলায় একজনের ১০, আরেকজনের ৫ বছরের সাজা

নওগাঁয় পৃথক মামলায় একজনের ১০, আরেকজনের ৫ বছরের সাজা
×

.

নওগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৫ | ১২:৫৬

নওগাঁয় পৃথক দুটি গুরুতর অপরাধে করা মামলায় শিশু অপরাধী হিসেবে অভিযুক্ত দুইজনকে যথাক্রমে ১০ বছর ও ৫ বছরের আটকাদেশ দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার সকালে জনাকীর্ণ আদালতে এই দুটি রায় ঘোষণা করেন শিশু আদালত-২ এর বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. মেহেদী হাসান তালুকদার।

প্রথম মামলার রায়ে, ২০১৩ সালে নওগাঁ জেলার সাপাহার থানার পিছলডাঙ্গা গ্রামের কুদরত আলীকে হত্যার দায়ে একই এলাকার সুমন (বর্তমানে বয়স ২৭ বছর) নামের এক শিশুকে ১০ বছরের আটকাদেশ দেওয়া হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে ঝগড়ার সময় সুমন কুদরতকে কোল থেকে তুলে আছাড় মারেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক কুদরতকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনায় নিহতের পিতা থানায় অভিযোগ করলে তদন্ত শেষে সুমনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। আদালত সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ রায় ঘোষণা করেন এবং বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় সুমনকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

অন্যদিকে দ্বিতীয় মামলায়, ২০১৪ সালে নওগাঁর পত্নীতলা থানার বাগমার গ্রামে পুরুষাঙ্গ কেটে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে (বর্তমানে বয়স ২৬ বছর) ৫ বছরের আটকাদেশ দেন একই আদালত। মামলার অভিযোগে বলা হয়, গভীর রাতে ছন্দা নিজ ঘরে বারিক নামের ২২ বছর বয়সী (বর্তমান বয়স ৩২ বছর) এক যুবককে ডেকে নিয়ে তার পুরুষাঙ্গের তিন-চতুর্থাংশ কেটে দেন। আদালত ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রায় ঘোষণা করেন এবং ছন্দাকেও জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

উভয় মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ পিপি রেজাউল করিম রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীগণ উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়েছেন।

এই দুটি মামলায় রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে আদালত বার্তা দিয়েছেন, অপরাধ যত পুরোনোই হোক এবং অপরাধী যেই হোক না কেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন

×