ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

জিপিএ ৫ পেয়েও কলেজে ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় মুহিন

জিপিএ ৫ পেয়েও কলেজে ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় মুহিন
×

মুহিন বাবু

জয়পুরহাট প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৫ | ২৩:৫৩

মুহিন বাবুর গল্পটা অন্য সবার মতো নয়। জন্মের পর থেকেই নানা প্রতিকূলতা জয়ের চ্যালেঞ্জে নামতে হয়েছে তাকে। কোনো কিছুই হার মানাতে পারেনি এই অদম্য মেধাবীকে। চলতি বছর জয়পুরহাট সদর উপজেলার মাধাইনগর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল সে। বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়ে সাফল্যের সঙ্গেই উৎরে গেছে মাধ্যমিকের গণ্ডি। শুধু তাই নয়, প্রতিটি বিষয়ে ‘এ প্লাস’ পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয় মুহিন। স্বপ্ন যখন ডানা মেলতে শুরু করেছে, তখনই মনের ঈশান কোণে অজানা আশঙ্কা উঁকি দিচ্ছে মুহিনের। তার উচ্চশিক্ষা অর্জনে দারিদ্র্য বাধা হয়ে দাঁড়াবে না তো! 
মুহিন বাবুর (১৬) বাড়ি ক্ষেতলাল উপজেলার নওটিকা গ্রামে। জন্মের ২৯ দিন আগে তার বাবা আবদুর রশিদ মারা যান। দুই বছরের মাথায় মা মিনা বেগম আবার বিয়ে করেন। তখন আশ্রয় মেলে নানা আফতাব আকন্দের কাছে। শুরু থেকেই পড়াশোনায় মেধার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করে মুহিন। প্রাথমিক স্তর থেকেই ক্লাসের সেরা ছাত্র ছিল।
মেধাবী এই ছাত্রের জন্য শিক্ষকরাও তাদের সাধ্যমতো সহায়তা দিয়েছেন। বিনা বেতনে পড়ালেখার সুযোগ করে দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এসএসসিতে মুহিনকে সহায়তায় এগিয়ে আসেন মাধাইনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জনে মুহিনকে দুই বছর বিনা পারিশ্রমিকে প্রাইভেট পড়িয়েছেন শিক্ষক হাফিজুল ইসলাম। ফরম পূরণের টাকা ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে সহায়তা করেন অপর দুই শিক্ষক শাফিউল ইসলাম ও মঞ্জুরা বেগম। 
জীবনে নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জে কখনও হেরে যায়নি মুহিন। কলেজে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন দেখলেও দারিদ্র্য চোখ রাঙাচ্ছে। মুহিন জানায়, ছোটবেলা থেকেই বাবা-মায়ের আদর তাঁর ভাগ্যে জোটেনি। নানার আশ্রয়ে বড় হয়েছে। পড়ালেখা চালিয়ে নিতে কখনও কখনও নানার সঙ্গে দিনমজুরিও করতে হয়েছে। যখন থেকে বোঝার মতো বয়স হয়েছে, তখন থেকেই নানার কাছে কোনো কিছু আবদার করার সাহস হয়নি। শুধু পড়ালেখাই করতে চেয়েছে সে। নানার অভাবের সংসারে তাদের দিন চলে না। এ অবস্থায় উচ্চশিক্ষা অর্জন 
বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার স্বপ্ন প্রকৌশলী হওয়ার। এ জন্য রাজশাহীর ভালো কোনো কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হতে চায় সে। কলেজে ভর্তি হওয়া ও থাকা-খাওয়ার অনেক খরচ। কীভাবে এসব খরচ জুটবে ভেবে পাচ্ছে না সে। 
মাধাইনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল হক বলেন, মুহিন মেধাবী ছাত্র। সহযোগিতা পেলে সে দেশের জন্য সম্পদ হয়ে উঠতে পারে। মুহিনের পড়ালেখায় সহযোগিতার জন্য সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহবান জানান তিনি। 

আরও পড়ুন

×